দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সিদ্ধান্তে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকেও স্থগিত করা হয়েছে আনোয়ার প্রধানকে। তবে এ সিদ্ধান্তকে অন্যায় দাবি করে দলের চেয়ারম্যানের কাছে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠি প্রাপ্তির পর থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হতে পারেনি মহানগর বিএনপি। দলটির নেতাদের দাবি, গত ৬ অক্টোবরের ঘটনায় আনোয়ার প্রধান ও রিফাত দুঃখ প্রকাশ কিংবা অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানাননি। উল্টো সদস্যসচিব ব্যক্তিস্বার্থে নোটিশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৬ অক্টোবর আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে অশোভন ও মারমুখী আচরণ করা হয়। ওই ঘটনায় বাধা না দিয়ে রিফাত উসকানি দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া সাখাওয়াত হোসেন খানকে অবরুদ্ধ রাখা এবং পরে ক্ষমা চেয়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ঘটনাটিকে আইনজীবী ফোরামের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তারা। তবে মহানগর বিএনপির বক্তব্য, সাখাওয়াত হোসেন খান সেখানে সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ফলে তার সাথে এমন আচরণ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
পৃথক চিঠিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তার সরকারি চেম্বার তালাবদ্ধ রাখা, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে চিঠিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এসব অভিযোগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করে আনোয়ার প্রধানের দুটি সাংগঠনিক পদ ও রিফাতের ওয়ার্ড সভাপতি পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় মহানগর বিএনপি। চিঠির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদককেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আনোয়ার প্রধান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যারা অন্যায়ভাবে আমার নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করল, তাদের বিচার বিএনপির সব নেতাকর্মীদের কাছে দিলাম। নিশ্চয়ই আমি এই বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বরাবর আপিল করব, ইনশাআল্লাহ। সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও রিফাতের দলীয় পদ কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থগিত করা হয়েছে। নগর বিএনপির আহ্বায়কের সঙ্গে আচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের পর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পদ স্থগিত করা হয়েছে। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে দলের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠানো হবে।’


