...|...|...

ধর্ম

বাড়তি মুনাফার আশায় মজুত, ইসলাম কি সমর্থন করে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৫৪ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:০০
Shares
বাড়তি মুনাফার আশায় মজুত, ইসলাম কি সমর্থন করে?

ছবি: এআই জেনারেটেড

বাজারে হঠাৎ কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে অনেক সময় এর পেছনে থাকে একটি পরিচিত কারণ- মজুতদারি। কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার লোভে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গুদামজাত করে রাখেন, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়। ইসলামি শরিয়তে এই প্রবণতাকে কীভাবে দেখা হয়, তা জানা জরুরি।

ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছে এবং হালাল উপার্জনকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করেছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা পরকালে নবী, সিদ্দিকিন ও শহীদদের সঙ্গী হবেন। তবে এই মর্যাদা তাদের জন্যই, যারা সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে ব্যবসা করেন। মুনাফা অর্জন বৈধ, কিন্তু মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে অন্যায় মুনাফা অর্জনকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

মজুতদারি বলতে বোঝানো হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অধিক মুনাফার আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আটকে রেখে বাজারে সংকট তৈরি করা। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মজুতদারি করে, সে পাপী।’

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, ‘মজুতদারি পাপ ছাড়া আর কিছু নয়।’ এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্য কৃত্রিমভাবে আটকে রাখা কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক কৌশল নয়, বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুতর অন্যায়।

ইসলামি স্কলারদের মতে, ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক কল্যাণ- ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের প্রয়োজন পূরণ। মজুতদারি এই উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, কারণ এতে ব্যবসায়ী নিজের লাভের জন্য মানুষের কষ্টকে দীর্ঘায়িত করেন। বিশেষত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা অধিক কঠোর, কারণ এর সঙ্গে মানুষের জীবনধারণ সরাসরি সম্পর্কিত। তবে কিছু ফকিহ মত দিয়েছেন, খাদ্য ব্যতীত এমন কিছু পণ্য- যেমন তুলা বা চামড়া- মজুত করায় শরিয়তগত বাধা নেই, যদি তা মানুষের জরুরি প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হয়।

ইসলাম ব্যক্তির ক্ষতি করাকেও নিষিদ্ধ করেছে, সমাজের ক্ষতি করাকেও। রাসুল (সা.)-এর বিখ্যাত নীতিবাক্য, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সওয়াও যাবে না’- এই মূলনীতি মজুতদারির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ মজুতদারির প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির ওপর পড়ে না, বরং পুরো সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ এর শিকার হন, যাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাড়তি মূল্য গুণতে হয়।

ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনে ব্যবসা ও মুনাফা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা হতে হবে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও স্বাভাবিক চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে। বাড়তি মুনাফার আশায় পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এবং মানুষের বিপদকে পুঁজি করা- এই দুটোই শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ও পাপের কাজ হিসেবে বিবেচিত।