লেস্টার সিটির সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টেনে এবার স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। দুই ক্লাবের সমঝোতায় কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে ছেড়ে দিচ্ছে লেস্টার। ফলে ধারে নয়, এবার স্থায়ীভাবে শেফিল্ডের জার্সিতে দেখা যাবে হামজাকে।
ইংল্যান্ডের দলবদলের শেষ দিনেই হামজার শেফিল্ডে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা। শেফিল্ড ইউনাইটেডের রাইট ব্যাক ফেমি সেরিকি চোট পাওয়ার পর দলে জরুরি ভিত্তিতে একজন খেলোয়াড় নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই সুযোগেই হামজাকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটি। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারও তাকে স্কোয়াডে পেতে আগ্রহী ছিলেন।
শেফিল্ডে হামজার প্রত্যাবর্তন অবশ্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে লেস্টার থেকে ধারে এই ক্লাবেই খেলেছিলেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লড়াইয়ে শেফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন হামজা। তবে প্লে-অফ ফাইনালে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাদের।
এবার সেই আক্ষেপ পেছনে ফেলে নতুন লক্ষ্য নিয়ে শেফিল্ডে ফিরছেন হামজা। আগেরবার যেখানে চুক্তিটি ছিল স্বল্পমেয়াদি, এবার সেটিই হতে যাচ্ছে স্থায়ী সম্পর্ক। চেনা পরিবেশে ফিরে নতুন করে দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
হামজার সাথে লেস্টারের সম্পর্কটা বেশ পুরোনো। মাত্র সাত বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। অ্যালবিয়নে দুই মৌসুম ধারে খেলার পর ২০১৭ সালে লেস্টারের মূল দলে অভিষেক হয় তার। এরপর ক্লাবটির হয়ে ১৬৬ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এই মিডফিল্ডার। জিতেছেন এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড ও চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা।
লেস্টারের হয়ে ইপসউইচ টাউন ও এমকে ডনসের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি হামজার। এরপরই তার দলবদল নিয়ে আলোচনা বাড়ে। ডার্বি কাউন্টিও তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে হামজার পছন্দ ছিল পরিচিত পরিবেশে ফেরা। শেষ পর্যন্ত সেই পছন্দই পূরণ হচ্ছে ,শেফিল্ড ইউনাইটেডেই শুরু হতে যাচ্ছে তার নতুন অধ্যায়।


