বাংলাদেশের সংবিধান এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে এককভাবে ক্ষমতাশালী করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। এর ফলে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সংবিধান পরিবর্তন না করলে বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বরগুনা জেলা শাখার আয়োজনে নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় আমির মামুনুল হক এসব মন্তব্য করেন।
একপর্যায়ে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পুতুলের মতো। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে রাষ্ট্রপতি উঠে দাঁড়ান, বসতে বললে বসেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে কিছু ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে থাকবে, কিছু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে থাকবে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী যিনি প্রধান বিচারপতি হন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কেনা গোলামের মতো থাকেন। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দেন, তিনি সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ কারণে এ দেশের বিচার বিভাগ কলঙ্কিত হয়। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। তাই জুলাই সনদে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রধান বিচারপতির নিয়ন্ত্রণে আলাদা একটি কমিশন গঠন করা হবে। সেটি হলে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন আর কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির টেলিফোনে বিচার কার্যক্রম প্রভাবিত হবে না। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বর্তমান সরকার তালবাহানা শুরু করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দেশের জনগণ গণভোটে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ইতিহাসের পাতায় গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বক্তৃতায় তিনি শেখ হাসিনার পরিণতির কথা উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনা দেশের জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। তাই জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে এমন খেলা খেলেছে, ছক্কা মেরে দেশের সীমানার বাইরে নিয়ে ফেলেছে। তাই দেশের জনগণের সাথে খেলতে যাবেন না। দেশের জনগণ কিন্তু চুপ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে। অথচ বিএনপি সরকার গণভোটকে অবৈধ বলে বাতিল করছে। গণভোটের রায় অনুযায়ী সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সরকার পতনের আন্দোলনে নামব।
এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ জাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মো. আব্দুল আজিজসহ আরও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলার সভাপতি মুফতি খায়রুল ইসলাম।

