বন রক্ষা করতে গিয়েই প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার শালগাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ সরকার। শুনতে বিপরীত মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে ‘সাল হার্টউড বোরার’ নামের এক ভয়ংকর পোকা, যা শালগাছের ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে গাছকে মেরে ফেলে। আক্রান্ত গাছ থেকেই পোকাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বৃহত্তর বনাঞ্চল রক্ষায় সংক্রমিত গাছ কেটে ফেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রদেশের ডিন্ডোরি জেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে শালবন। কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪টি আক্রান্ত শালগাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। পাশের অনুপপুর জেলার অমরকণ্টক এলাকাতেও আরও ৯ হাজার ৫৩৫টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই এলাকা মিলিয়ে সংখ্যাটি দেড় লাখেরও বেশি।
‘সাল হার্টউড বোরার’ মূলত শালগাছকেই আক্রমণ করে। পোকার লার্ভা গাছের ছাল ভেদ করে ভেতরের অংশে ঢুকে কাঠ খেতে থাকে। এক পর্যায়ে গাছ ভেতর থেকে দুর্বল ও ফাঁপা হয়ে যায় এবং মারা পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত গাছগুলো আবার এই পোকার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পোকা দমনে শুধু গাছ কাটাই নয়, ‘ট্র্যাপ ট্রি’ পদ্ধতিও ব্যবহার করছে বন বিভাগ। এতে কিছু গাছ কেটে বা ছাল সরিয়ে রস বের করা হয়, যা পোকাগুলোকে আকৃষ্ট করে। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিটি পোকা ধরে দেওয়ার জন্য ২ রুপি করে দেওয়া হচ্ছে। ডিন্ডোরিতে এ পর্যন্ত ১৯ লাখের বেশি পোকা সংগ্রহ করা হয়েছে, এতে প্রায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছে।
বন বিভাগের হিসাবে, ডিন্ডোরির প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর শালবন এই পোকার প্রভাবে পড়েছে। করঞ্জিয়া অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; ডিন্ডোরির আক্রান্ত গাছের প্রায় ৯০ শতাংশই এই এলাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পোকার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব প্রায় কয়েক দশক পরপর দেখা দিতে পারে। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকেও মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। এবারের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতও পোকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। বন বিভাগের দাবি, সুস্থ শালগাছ ও পুরো বনাঞ্চলকে রক্ষা করতেই আক্রান্ত গাছগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।


