...|...|...

সারাদেশ

ফেসবুকে লিখেছিলেন ‘আমি যে কখন মরি’; একদিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২৫
Shares
ফেসবুকে লিখেছিলেন ‘আমি যে কখন মরি’; একদিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল। ছবি: সংগৃহীত

‘প্রতিদিন কত আপনজন ও পরিচিতজনের মৃত্যুর সংবাদ পাই, আমি যে কখন মরি।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে এমন আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র একদিন পরই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল (৫৪)। কুমিল্লার বুড়িচং থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাস উল্টে তিনিসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার আঁধার মানিক দরগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুনিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের একটি দল তিশা পরিবহনের একটি বাসে করে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। পথে সাতকানিয়ার আঁধার মানিক দরগা এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল কুমিল্লার স্থানীয় ‘দৈনিক রূপসী বাংলা’ পত্রিকার ম্যানেজার ছিলেন। তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষিকা নাদিরা আফরোজের স্বামী। দুর্ঘটনায় নিহত অপরজন হলেন একই মাদ্রাসার শিক্ষিকা সোহানা আফরোজ।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আফসার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে, কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার জাতীয় কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিন থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

বুড়িচংয়ের ইউএনও তানভীর হোসেনও জানান, শিক্ষাসফরের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতি নেয়নি। এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সাথে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।