...|...|...

খেলা

ফিফটিতেই বিদায় লিটনের, ৮ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:১৩
Shares
ফিফটিতেই বিদায় লিটনের, ৮ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

দারুণ সূচনার পর আফগানিস্তানের বোলারদের চাপে পড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ১২৪ রানে কোনো উইকেট না হারানো দলটি এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে। লিটন কুমার দাসের অর্ধশতকের পরও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। তার বিদায়ে ৩০৫ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

লিটন ৮৯ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫৩ রান করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ২১তম অর্ধশতক। ইনিংস বড় করার পথে শর্ট বল হুক করতে গিয়ে বিপদে পড়েন তিনি। ডিপ স্কয়ার লেগে ইয়ামিন দারুণ ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। মোহাম্মদ সেলিমের বলে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

এর আগে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে দারুণ শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১২৪ রান। টেস্টের মেজাজের বাইরে গিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ। মাত্র ৪১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পরও একই গতিতে রান তোলার চেষ্টা করেন তিনি। তবে ৮৩ রানে থামে তার ইনিংস।

ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তানজিদ। আফগানিস্তানের উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিল দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন। ১২৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

অন্য প্রান্তে সাদমানও অর্ধশতক তুলে নেন। তবে তিনিও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৬৭ রান করে মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে জিয়া-উর-রহমানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৮৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপরই বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ভালো খেলতে থাকা মুমিনুল হক ৩৯ রান করে বিদায় নেন। ইয়ামিনের লেংথ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটে লাগা বল তুলে দেন শর্ট কভারে। সেখানে রহমত ক্যাচটি নেন। ২২১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ব্যাটিং বিপর্যয় আরও বাড়ে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম কোনো রান না করেই বোল্ড হন। ইয়ামিনের ইনসুইং ইয়র্কারে পরাস্ত হন তিনি। ৭ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন এই ব্যাটার। তার বিদায়ে ২২৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ফলে ২২৫ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। চা-বিরতির আগে দ্রুত তিন উইকেট হারানোয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কঠিন হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের জন্য।

বিপর্যয়ের পর লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজ জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের ব্যাটে আসে ৬২ রানের জুটি। তবে মিরাজের বিদায়ে সেই জুটির সমাপ্তি ঘটে। ২৪ রান করে ইসমত আলমের বলে বোল্ড হন তিনি। খাটো লেংথের বল ভেতরে ঢুকে আসায় কাট করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান মিরাজ। বল তার ব্যাটে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। ২৮৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

মিরাজের বিদায়ের পরও লিটন লড়াই চালিয়ে যান। অর্ধশতক পূর্ণ করে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও আউট হন। তার বিদায়ে ৩০৫ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।