ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এর দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় বালুবাহী ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ওপর পড়লে প্রাণ হারান মা, তার সাত বছরের ছেলে ও ইজিবাইকচালক। এ দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সাথে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ‘কিংফিশার’ নামের একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও চারজন।
এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামীম রেজা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সারোয়ার বলেন, দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সরবরাহে থাকা ওষুধের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য ওষুধের ব্যবস্থা করতেও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাক উল্টে মা-ছেলেসহ নিহত ৩
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২), তার সাত বছরের ছেলে শাওন এবং ইজিবাইকচালক। তবে চালকের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮)সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি বালুবাহী ট্রাক। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটির একটি চাকা বিস্ফোরিত হলে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে।
দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটির একাংশ ট্রাকের নিচে আটকে দুমড়েমুচড়ে যায়। অন্যদিকে, বালুভর্তি ট্রাকের নিচে ইজিবাইকটি পুরোপুরি চাপা পড়ে। এতে ইজিবাইকের যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, ইজিবাইক থেকে আহত অবস্থায় তিনজনকে এবং প্রাইভেটকার থেকে একজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমি বেগম ও তার ছেলে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্যদিকে, ইজিবাইকচালক বালুর নিচে চাপা পড়ে মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর ইজিবাইক থেকে তিনজন এবং প্রাইভেটকার থেকে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান।


