...|...|...

সারাদেশ

পাবনায় বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৪৬ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫০
Shares
পাবনায় বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

পাবনা সদর উপজেলায় শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ১১ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়া গ্রামের মৃত আলম হোসেনের ছেলে। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সামনে চায়ের দোকান চালাতেন। আর শিশুটি সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ওই শিশুকে জোরপূর্বক চায়ের দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পান। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইফুল ইসলাম সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া তার বাড়িঘরেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে চায়ের দোকানের ভেতরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে।

ওসি আরো বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ওই চায়ের দোকানে আগুন দিয়েছে এবং অভিযুক্তের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে মোস্তফা প্রামানিক নামের এক মুদি দোকানি ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামানিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর পাবনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামানিকের বহুতল ভবনে ভাঙচুর চালায়। পুলিশের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মোস্তফা। তবে ইয়াছিন কোনোটিই স্বীকার করেননি। তিনি হত্যার পর মোস্তফাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

কলি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।