...|...|...

বিশ্ব

পাকিস্তানের অনুমতি না থাকায় আটকে যায় রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৯ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২০
Shares
পাকিস্তানের অনুমতি না থাকায় আটকে যায় রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমান

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন স্থগিত হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই চালান আসার কথা থাকলেও তা এসে পৌঁছাতে পারেনি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি এএনআই-কে দেওয়া ফোনালাপে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আমরা শুনেছি যে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি না পাওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ছাড়পত্র না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, নতুন একটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে এবং রাশিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআই-কে ফোনে বলেন, আমরা বিমানবন্দরে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের জানান যে আকাশসীমা ক্লিয়ার বা উন্মুক্ত নয়। তাই এটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। চালানটি পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে কোন দেশ আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে, সে বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের একজন প্রতিনিধির কাছে ইমেইলের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে বাংলাদেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে। এই প্রকল্পে দুটি থার্ড-জেনারেশন ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সম্মিলিতভাবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বেজলোড বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান নিরাপদে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করেছিল। রোসাটমের নভোসিবিস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্লান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা জ্বালানি অ্যাসেম্বলি কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মধ্যে ভারী রুশ কার্গো বিমানে করে সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল। পরে কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে ‘গ্রিন কোরিডোর’ দিয়ে বিকিরণ-রোধী কন্টেইনারগুলো পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রকল্প সাইটে নেওয়া হয় এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল।