...|...|...

জাতীয়

নিম্নমানের মসলা ও ঘিসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:১২ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫১
Shares
নিম্নমানের মসলা ও ঘিসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিসহ মোট ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত পণ্যগুলো না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়। 

বিএসটিআই জানিয়েছে, বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ‘ঘি’তে মিল্ক ফ্যাটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি দিয়ে তৈরি পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অন্যদিকে বম্বে সুইটসের কয়েকটি মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বাংলাদেশ মানের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পাঁচটি পণ্য হলো-কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং–১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং–১৪০২২৬), কালাভুনা মসলা (ব্যাচ নং–২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ–এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ–এ)।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুণ বাঘাবাড়ী’ ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পোলেনস্কে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের উপাদান যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো পণ্যে ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে হটলাইন ১৬১১৯ নম্বরে কল অথবা [[email protected]](mailto:[email protected]) ঠিকানায় ই-মেইল করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।