বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যা নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করার সুযোগ তৈরি করছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন প্রণয়ন, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তার দাবি, দুদক পুনর্গঠনের মাধ্যমে এনসিপি ও বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। একই সাথে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানান।
মোংলার মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গুমের ঘটনা না থাকার দাবি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিরাজের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়ার অভিযোগও করেন এনসিপির এই নেতা।
গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তার ভাষ্য, তানভীরের বক্তব্যকে এনসিপি সমর্থন করেনি এবং দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ যৌক্তিক কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই ধরনের মামলা গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ।
হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় বিরোধী মত ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। তার মতে, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই পরিচালিত হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একইভাবে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলে অনেকে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির বিরোধীদলীয় সময়ে গুমের বিভিন্ন ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল। এখন দলটি সরকারে থাকায় জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না-এমন অভিযোগও করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। গুমের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতারা অতীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের কাছে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।


