...|...|...

জাতীয়

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৩০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৮
Shares
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: টাইমস টুডে গ্রাফিক্স

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে সবশেষ ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোট হয়েছিল, এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংসদের ৩৪৮ জন সদস্য ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। ভোট শেষে সংসদকক্ষেই ব্যালট গণনা করে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এবারের ভোট ছিল উন্মুক্ত- প্রতিটি ব্যালটে ভোটদাতা সংসদ সদস্যের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত থাকায় কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবেই জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির ২৪৭ জন এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ৯০ জন সংসদ সদস্য ভোট প্রদান করেন। ঘোষিত ফলাফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট- অর্থাৎ মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। মোট ৩৪৮ জন ভোটারের মধ্যে বাকি ৫ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন বা ভোট দিতে পারেননি। সংসদ সদস্যদের এই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে বলে আগেই জানিয়েছিল ইসি, এবং আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পুরো সময়টায় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগে তিনি দলের মহাসচিব পদ ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিন তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য ঘোষিত হবে, যেখানে পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।