কিডনি প্রতিস্থাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শুধুমাত্র একটি জরুরি পরীক্ষার কিট বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে থমকে গেছে এক রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়া। দাতা হিসেবে মা নিজেই কিডনি দিতে প্রস্তুত থাকলেও, দেশে নির্দিষ্ট সেই পরীক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মুন্সিখানপুর বাড়ির বাসিন্দা মাসুদুর রহমান। পেশায় কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার। তাকে নিয়ে তার ছোটভাই সাংবাদিক জুয়েল জানান, বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে দাতা হিসেবে তার মায়ের উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।
জুয়েল বলেন, গত দুই-তিন মাস ধরে তার পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বড় ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তার মা কিডনি দাতা হতে সম্মত হয়েছেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ক্রস-ম্যাচসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে একটি বিশেষ পরীক্ষার জন্য আটকে আছে পুরো প্রক্রিয়া।
ভিডিও বার্তায় পরীক্ষাটির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিটিপিএর রেনোগ্রাম উইথ স্প্লিট ফাংশন অ্যান্ড জিএফআর’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিডনি দাতার এই পরীক্ষাটি করাতে হচ্ছে জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে দেশে কোথায় পরীক্ষাটি করানো সম্ভব, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছেন না তিনি।
জুয়েল জানান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়েও পরীক্ষাটি করানোর নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা পাননি। এমনকি কবে নাগাদ পরীক্ষাটি করা সম্ভব হবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। অথচ পরীক্ষাটি সম্পন্ন করা গেলে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতো।
তিনি বলেন, আমাদের সপ্তাহে দুইটা করে ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে। সাথে ওষুধ তো চলছেই একাধারে। তো সেক্ষেত্রে আমরা যদি এই টেস্টটা করাতে পারতাম, তাহলে হয়তবা আমাদের কাজটা আরও সহজ হয়ে যেত।
পরীক্ষাটি বিদেশে পাঠিয়ে করানোর সুযোগও নেই বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, এটি শুধু রক্ত বা প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষার বিষয় নয়; কিডনি দাতাকে সরাসরি উপস্থিত থেকে পরীক্ষাটি করাতে হয়। ফলে দেশের বাইরে নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করানোর বিকল্পও কার্যকর হচ্ছে না।
জুয়েল আরও জানান, সর্বশেষ গত সপ্তাহে পূজার ছুটির আগে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও খোঁজ নিয়েছেন। সেখানেও পরীক্ষাটি করানোর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। এ সময় একই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকা ৮-৯ বছর বয়সী আরেকটি শিশুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকায় ওই শিশুটির চিকিৎসাও এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের আকুতি, সাধারণ মানুষের পক্ষে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা বা পরীক্ষা করানো অসম্ভব। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি এই পরীক্ষার কিট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

