বর্ষা এলেই পাহাড়ি ছড়ায় পানি বাড়ে। তখন ছড়াটি পার হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের। শিক্ষার্থী, কৃষক থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—প্রয়োজনে ছড়া পারাপার করতে গিয়ে ঝুঁকি নিতে হয় সবাইকে। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের মধ্য দিয়ে।
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্লাতলী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ছয়টি পাড়ার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের দুল্লাতলী আর্মি ক্যাম্প।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছয়টি পাড়ার প্রায় ৩০০ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি পানির ছড়া পার হয়ে যাতায়াত করতেন। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার করা গেলেও বর্ষায় ছড়ায় পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে।
বিশেষ করে দুল্লাতলী হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি ছিল বড় সমস্যা। প্রতিদিন ছড়া পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের ঝুঁকি নিতে হতো। ভারী বৃষ্টি হলে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতও ব্যাহত হতো।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুল্লাতলী আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে ছড়ার ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। সাঁকো নির্মাণের পর এখন ছয় পাড়ার বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচলও অনেকটা সহজ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুনায়েম বলেন, আগে ছড়াটি পার হতে গিয়ে বিশেষ করে বর্ষার সময় খুব কষ্ট হতো। পানির স্রোত বেশি থাকলে শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হতো। বাঁশের সাঁকোটি হওয়ায় এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে চলাচল করা যাচ্ছে।
দুল্লাতলী হাইস্কুলের শিক্ষার্থী যতন চাকমা জানায়, বৃষ্টির দিনে ছড়া পার হয়ে স্কুলে যেতে ভয় লাগত। সাঁকোটি নির্মাণের পর যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। এখন বৃষ্টি হলেও আগের মতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ছোট একটি সাঁকোও মানুষের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব এলাকায় সাধারণ অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাঁকো নির্মাণের ফলে ছয় পাড়ার মানুষের চলাচলে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও তৈরি হয়েছে নিরাপদতর পথ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


