...|...|...

রাজনীতি

পাবিপ্রবি

দাওয়াত না পাওয়ায় জুলাইয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করল ছাত্রদল

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৪ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:০২
Shares
দাওয়াত না পাওয়ায় জুলাইয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করল ছাত্রদল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রশাসন আয়োজিত ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ কর্মসূচিতে দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের নির্ধারিত বক্তব্য ছাড়াই দোয়া পরিচালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই আন্দোলনে শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের পিতা আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য দেন। পরে আরেক শহীদ জাহিদুল ইসলামের পিতাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।

এরপর অনুষ্ঠানস্থলে দাঁড়িয়ে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘পাবিপ্রবি ছাত্রদল জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘জুলাইয়ের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না পিঠের চামড়া থাকবেনা’, ‘আবু সাইদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ এবং ‘আহ্বায়ক ভুয়া, ভুয়া’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালে এক ছাত্রদল কর্মী তার দিকে তেড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে উপাচার্য মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানের পর আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও তারা স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া শুরু করলে স্বাধীনতা হল মসজিদের ইমাম মুফতী শাখাওয়াত হোসেন দোয়া পরিচালনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গেও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত অংশীজন ও আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করায় তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত অংশগ্রহণকারী ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, ৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

একই অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, জুলাই স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা আহত হওয়া শিক্ষার্থীদের কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা জেলার সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহ-সমন্বয়ক রুমেল এবং গুম হওয়া নিশানসহ সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কারণেই তারা কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে অভিযোগ নাকচ করে অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে বিভাগগুলোতেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন জুলাই যোদ্ধাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ফোন করে অনুষ্ঠানে এবং হলের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।