দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তিনি দেশে পা রাখবেন। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাকে দেশের মাটিতে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই দলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা ব্রিফিং করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক প্রভাবশালী সদস্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে দাবী করেছে একটি গণমাধ্যম।
দলের হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত আসা-যাওয়া নয়, বরং এটি দলের নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তার ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে দলের ভেতরে ‘সর্বোচ্চ গতিতে’ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনা এবং পরবর্তী কর্মসূচি—সবকিছুই নিখুঁতভাবে সাজানো হচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে দল।
তারেক রহমানের ফেরার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সময়ের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সাধারণত এই ভাষণের মাধ্যমেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে রেকর্ড করা ভাষণটি কবে বা কখন সম্প্রচার করা হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ভাষণ প্রচারের পরপরই রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসবে।
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তফসিল ঘোষণা হলে তারেক রহমানের দেশে ফিরতে আর কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বাধা থাকবে না বলে তারা মনে করছেন। সেক্ষেত্রে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের সময়সীমাটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারণার হাল ধরবেন বলে আশাবাদী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

