...|...|...

আইন ও আদালত

নুসরাত হত্যা মামলা

ঢালাও ফাঁসির রায় দেওয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৪০ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০৭
Shares
ঢালাও ফাঁসির রায় দেওয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ঢালাওভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ নির্দেশ দেন।

রায়ে আদালত বলেন, বিচারিক আদালত এভাবে নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় প্রতিটি পরিবারের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। এ কারণে তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের ও প্রভাষক আফসার উদ্দিনসহ মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

নিম্ন আদালতের ওই রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।