...|...|...

রাজধানী

ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল

ঢাকার রাস্তায় বৃদ্ধকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস, নেপথ্যে কী

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৩৯
Shares
ঢাকার রাস্তায় বৃদ্ধকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস, নেপথ্যে কী

ঢাকার রাস্তায় বৃদ্ধকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ঘটনাস্থলে দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা মারধর থামাতে এগিয়ে আসেননি বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে পুলিশের সামনে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে ঘটনাটি ঘটে। ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে গালিগালাজ করছেন এবং চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। একপর্যায়ে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।

ভিডিওতে আশপাশের কয়েকজনকে ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’ এবং ‘ক্যানটিনে ঘটনাটি ঘটেছে’ বলতে শোনা যায়। পথচারীদের কেউ কেউ মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মারধরকারী যুবক ও এক পথচারী তার মোবাইল ফোন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাকে আবারও চড় মারা হয়।

ঘটনার সময় কাছেই দুই পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে ভিডিওতে তাদের কাউকে মারধর থামাতে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দেখা যায়নি। এ দৃশ্য সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযোগের বিচার করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা হয়, ‘আহা-বাংলাদেশ! আহা স্বাধীনতা! আহা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনের শাসন! পুলিশের সামনেই দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে একজন বাবার বয়সী লোকের উপর মব সৃষ্টি করছে, অথচ পুলিশ দর্শকের মতো ভূমিকা নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখছে?’

আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীর ভাগনির সাথে খারাপ আচরণ করেছিলেন। পুলিশ আইনি সহায়তা না দেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়। একইসাথে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পথে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

সম্রাট শাহাদত নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত ভিডিওটি ৪৬ লাখ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ৬৪ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছে এবং এটি শেয়ার হয়েছে ১১ হাজার বার।

এদিকে ভুক্তভোগী তরুণী মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তি তাকে ‘ব্যাড টাচ’ বা খারাপভাবে স্পর্শ করেছিলেন। ঘটনার পর তাকে ধরে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের কাছে নিয়ে গেলে তারা তাকে নিতে অনাগ্রহ দেখান এবং তরুণীকে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তরুণীর ভাষ্য, ওই ব্যক্তির কাছে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি দায় স্বীকার করে ‘সরি’ বলেন। পরে তিনি মামাকে ফোন করেন। মামা ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। এরপর পুলিশ এসে তাকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।

ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে শহীদ আবদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, তরুণীর শরীর স্পর্শ করার ঘটনায় ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন। ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণীকে শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা দুই পুলিশ সদস্য কেন মারধর থামাতে এগিয়ে আসেননি, জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল বলেন, উত্তেজিত জনতার মারমুখী আচরণের কারণে পুলিশ শহীদ আবদুল্লাহকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি। ওই দুই সদস্যের সেখানে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। তবে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করা যুবকও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ করেছেন। তাকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

ওসি আরও জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। পরিবারের সাথে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। এমবিবিএস পড়ার সময় তার এ সমস্যা দেখা দেয় বলে পরিবার জানিয়েছে। তার বিয়ে হয়েছিল, তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।