জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শেখ রাসেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোররাতে সরিষাবাড়ী উপজেলার কয়ড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শেখ রাসেল উপজেলার চুরিয়ার ভিটা মধ্যপাড়া এলাকার মো. সাহেব আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর সরিষাবাড়ী থানায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদান আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শেখ রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকাল আনুমানিক ৫টায় সারা দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতার একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি সরিষাবাড়ী থানাধীন আরামনগর বাজার থেকে রওনা হয়ে শিমলাবাজার বাসস্ট্যান্ডের সামনে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
শেখ রাসেলসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতা-কর্মী লোহার পাইপ, রামদা এবং ককটেলসহ মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে অবস্থান করছিল। মিছিলটি আসামাত্রই তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করে এবং ছাত্র-জনতার ওপর এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করে। হামলায় আন্দোলনকারী বহু মানুষ গুরুতর জখম হন।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয় তদন্ত এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনার সাথে আসামি শেখ রাসেলের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।


