রায়হান হোসেন (ছদ্মনাম), বয়স ৪৫ । স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুরে। দেশের এক অনলাইন গণমাধ্যমের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত রায়হানের দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছিল। কিন্তু গত ২৪ অক্টোবর হঠাৎ করেই তার স্ত্রীর শরীরে ধরা পড়ে মরণব্যাধি ক্যান্সার।
রোগ ধরা পড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন ল্যাব ও হাসপাতালে দফায় দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন তিনি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শূন্য করার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম দফার কেমোথেরাপিতেই ব্যয় হয়েছে আরও ৪০ হাজার টাকা।
চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত দেশের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তবে এর আনুমানিক খরচ শুনে কূল কিনারা পাচ্ছে না পরিবারটি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মতো প্রয়োজন। সঞ্চয় শেষ, ধারদেনার বোঝা ঘাড়ে আর আত্মীয়স্বজনের কাছে বারবার হাত পাততে লজ্জাবোধ করায় চরম মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটছে পরিবারটির। টাইমস টুডেকে তিনি বলেন, "তিনটা ছেলেমেয়েই ছোট, তাদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। আর এত টাকা একসঙ্গে কোথায় পাবো? দেশে যদি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কোনো সরকারি তহবিল থাকত তবে আমাদের মতো মানুষদের এভাবে অসহায় হয়ে পড়তে হতো না।"
রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা রহমত আলী (৪৮)। নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকানী। গত বছর হঠাৎ স্ট্রোক করায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হন তার পরিবার। সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে জমানো ৩০ হাজার টাকা এবং চড়া সুদে এনজিও থেকে নেওয়া আরও ৫০ হাজার টাকায় কোনোমতে রোগীর জীবন বাঁচলেও ওষুধের নিয়মিত খরচ আর ফলোআপ টেস্টের চাপে আজ তিনি দিশেহারা।
চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে শেষ সম্বল হিসেবে থাকা গ্রামের এক টুকরো ভিটেমাটিও বন্ধক রাখতে হয়েছে। রহমত আলীর আক্ষেপ, "অসুখ তো বইলা কয়া আসে না স্যার, কিন্তু ডাক্তারগো ফি আর ওষুধের দাম দেইখা মনে হয় গরিব মানুষের বাঁচার কোনো অধিকার নাই।"
রায়হান বা রহমত আলী নন দেশের স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর সর্বস্বান্ত হচ্ছে কোটিরও বেশি পরিবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই পরিশোধ করতে হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সর্বোচ্চ। নামমাত্র মূল্যে সরকারি সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব, আইসিইউ সংকট ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি খাতের শরণাপন্ন হচ্ছে।
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মৌলিক অধিকার 'চিকিৎসা' আজও দেশের মানুষের কাছে স্বপ্নই রয়ে গেছে। রায়হানের স্ত্রীর ক্যানসার কিংবা রহমত আলীর স্ট্রোকের চিকিৎসার মতো ঘটনাগুলো আমাদের জনস্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত দুর্বলতারই বাস্তব চিত্র।
স্বাস্থ্য খাতের এই লাগামহীন ব্যয় ও অব্যবস্থাপনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নজরদারি, সুলভে ওষুধ প্রাপ্তি এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করা না হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আধুনিক অবকাঠামো ও বহুতল হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো কোনো সমাধান নয়, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ব্যয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭৯.৩১ শতাংশই মেটাতে হয় রোগীর নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয় যেখানে প্রতিবেশী ভারতে খরচ ৪৩.৮৯ শতাংশ, ভুটানে ২৫.৪৬ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে মাত্র ৮.৩ শতাংশ।
যুক্তরাজ্য (১২.৭ শতাংশ) ও যুক্তরাষ্ট্রে (১০.৯৩ শতাংশ) মতো উন্নত দেশে শক্তিশালী বিমা সুবিধার কারণে পকেট খরচ কম হলেও বাংলাদেশে ওষুধ, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচে একটি জটিল ব্যাধিই একটি পরিবারকে টেনে নামাচ্ছে দারিদ্র্যসীমার নিচে।
এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের (এইচইইউ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসায় নিজের পকেট থেকে খরচ জোগাতে গিয়ে ২০২২ সালে দেশে ১ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন যা মোট জনসংখ্যার ৬.৪ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সুইডিশ সরকারের সহায়তায় ২০০৫ থেকে ২০২২ সালের ‘খানা আয় ও ব্যয় জরিপ’ (এইচআইইএস) বিশ্লেষণ করে পরিচালিত হয়েছে এই গবেষণার ফল।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২০২২ সালে ১৮.৭ শতাংশে নামলেও চিকিৎসা খরচের কারণে আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০০৫ সালে যেখানে চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে নিঃস্ব হওয়ার হার ছিল ২৮.২ শতাংশ, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১.৭ শতাংশে (বিশ্বের গড় ২৬%)।
২০০৫ সালে পরিবারপ্রতি গড়ে চিকিৎসা ব্যয় ছিল ১ হাজার ২৪১ টাকা যা ২০২২ সালে বেড়ে ৩ হাজার ২৩৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসার পেছনে নিজস্ব ব্যয় করতে হয় এমন পরিবারের হার ৫২.৫ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৯২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগ নির্ণয় ও ওষুধ কেনার জন্য মানুষ ক্রমেই ফার্মেসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ২০১৬ সালে বহির্বিভাগের ৩২.৫ শতাংশ সেবা ফার্মেসি থেকে নেওয়া হলেও ২০২২ সালে তা বেড়ে ৫৫.৪ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার হার কমেছে (৬১.৩% থেকে কমে ৫৬%), বিপরীতে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হার বেড়ে ৪২.৫ শতাংশ হয়েছে।
দরিদ্রদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে এই খাতে। ২০২২ সালে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ৯০.৮ শতাংশই চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। শহরাঞ্চলের ২৮.২% চেয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ৪৭.৯% ওপর এ চাপ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বরিশাল বিভাগে আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের হার ২০০৫ সালের ২২.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৫৯.১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
এইচইইউ-এর ফোকাল পয়েন্ট সুব্রত পাল জানান, অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে হাতে থাকা অর্থের ৪০ শতাংশের বেশি চিকিৎসায় খরচ হলে তাকে আর্থিক সংকট বলা হয়। বর্তমানে আর্থিক চাপে না পড়ে চিকিৎসা বহন করার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসাব্যয়ের কারণে পরিবার নিঃস্ব হওয়া ঠেকাতে সরকারি স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানো, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং থাইল্যান্ড বা উন্নত বিশ্বের আদলে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা চালু করা ছাড়া বিকল্প নেই।
মান নিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট না
স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন নীতি ও কৌশল নির্ধারণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার বিষয়ে এই প্রতিষ্ঠানের নথিতে বলা হয়েছে, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবলে বিনিয়োগ করার পরও দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য খাতে এটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
সরকারি কিছু হাসপাতাল ছাড়া মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা পায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর জন্য বেশি সময় দেন না রোগনির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটা অংশ অপ্রয়োজনীয়। এছাড়া, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তুষ্টি আছে। সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, প্রায় ৭-৮ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে অবস্থাপন্ন মানুষেরা। দেশে চিকিৎসাসেবার মানের ব্যাপারে সন্দেহ থাকায় মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। আবার শহরের থেকে গ্রামের মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেশি আর্থিক কষ্টে পড়ে।
অন্যদিকে শহরের তুলনায় চিকিৎসায় গ্রামের মানুষের নিজস্ব ব্যয় বেশি। গবেষকেরা দেখেছেন, চিকিৎসার কারণে আর্থিক কষ্টে পড়ার ঘটনাটি মূলত সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে কেন্দ্রীভূত। সবচেয়ে দরিদ্র যারা তাদের ৯০ দশমিক ৮ শতাংশের ওপর এই চাপ পড়ে। আর সবচেয়ে ধনীদের মধ্যে তা ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞর মত
পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল টাইমস টুডেকে বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর টাকা বরাদ্দ করলেও সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ কমার কোনো মিল বা সম্পর্ক নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের টেস্টের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় এবং পরীক্ষাগুলো ঠিকমতো না হওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়া চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় দামি ওষুধ বা কেমোথেরাপির মতো ব্যবস্থা সেখানে পাওয়া যায় না, সরকার মূলত প্যারাসিটামল বা ভিটামিনের মতো প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধই কেবল কিনে থাকে।
তিনি আরও বলেন, পকেটের খরচ কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সরকার কেবল দৃশ্যমান কাজ যেমন- অ্যাম্বুলেন্স কেনা কিংবা উপজেলা হাসপাতালে শয্যা ও বিল্ডিং বাড়ানোর পেছনে অর্থ ব্যয় করে যা মূল সমস্যার সমাধান করে না। রোগীদের প্রকৃত প্রয়োজন মেটাতে এবং পকেটের খরচ কমাতে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
অপ্রয়োজনীয় শয্যা সংখ্যা না বাড়িয়ে প্রাইমারি হেলথকেয়ার বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ঠিক করা বেশি জরুরি। এই বিশেষজ্ঞের মতে, কেবল আমলাদের পরিকল্পনা নয় বরং পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় রোগী, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মতামত ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতের সংকট ও উত্তরণে কাঠামোগত সংস্কার
দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর দশা ও কাঠামোগত ত্রুটির কথা তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ টাইমস টুডেকে বলেন, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাটিই বর্তমানে একধরনের ত্রুটিপূর্ণ ও অকার্যকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। হাসপাতালগুলোর বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত (সেন্ট্রালাইজড) এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া না থাকায় এগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালগুলোকে ওষুধ সরবরাহের জন্য সিডিসিএল, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পিডব্লিউডি, যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য ‘নিমু’ এবং যানবাহন মেরামতের জন্য ‘টেমু’ এই চার ধরনের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সময়মতো জরুরি সেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে হুটহাট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা ওএসডি করার মতো পদক্ষেপগুলোকে "অপরিপক্ক" বা "টিনেজ ম্যাচুরিটি" হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও পরিপক্ক কাঠামোগত সিদ্ধান্ত।
স্বাস্থ্য খাতের ফাইন্যান্সিং গ্যাপ দূর করতে এবং হাসপাতালগুলোকে সচল রাখতে একটি ‘জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল’ এবং ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠন করার প্রস্তাব দিয়ে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারভিত্তিক ‘হেলথ কার্ড’ বা স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরামর্শ দিয়ে ড. হামিদ বলেন, নির্দিষ্ট সিলিংযুক্ত এই কার্ড থাকলে রোগীরা সরকারি হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত সেবা পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করবেন। সেবা না পেলে রোগীরা ‘গ্রেভেন্স রিএড্রেস সেল’-এর মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবে।
এই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবীদের মতে, দেশে ওষুধের অযৌক্তিক ব্যবহার ও অতিরিক্ত সেবনের প্রবণতা রোধে সেলফ মেডিকেশন এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, সরকার যদি পাইকারি বা বাল্ক পরিমাণে ওষুধ ক্রয় করে তবে খুচরা বাজারের তুলনায় অনেক কম খরচে তা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে যা দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে বা কম মূল্যে সরবরাহ করা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

