যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলন্ত স্কুলবাসের চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বাসটিতে থাকা প্রায় ২০ শিশুকে নিরাপদে রাখতে দ্রুত এগিয়ে আসেন ২৭ বছর বয়সী ইব্রো আহমেদ। চলন্ত বাসে উঠে জরুরি ব্রেক টেনে সেটি থামিয়ে দেন তিনি। তার দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শিশুরা।
গত ১৯ অক্টোবর মিনেসোটার সেন্ট পল শহরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান আহমেদ।
আহমেদ জানান, ‘ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকো’ নামের দোকানটির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তার চোখে পড়ে একটি স্কুলবাস। বাসটির দরজা খোলা ছিল এবং সেটি চলন্ত অবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছিল। ভেতরে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, চালক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার অবস্থা দেখে খিঁচুনি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আর দেরি করেননি আহমেদ। দ্রুত বাসটির দিকে ছুটে গিয়ে ভেতরে উঠে পড়েন। এরপর জরুরি ব্রেক টেনে বাসটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পর এবিসি নিউজকে আহমেদ বলেন, ওই মুহূর্তে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই নিজের দায়িত্ব বলে মনে হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই মনে করেছি, এটা আমার দায়িত্ব। এখানে শিশুদের জীবনের প্রশ্ন জড়িত। এমনকি আমার নিজের প্রাণ চলে গেলেও এই কাজ সার্থক হতো।’
বাসের ভেতরের পরিস্থিতি ছিল বেশ বিশৃঙ্খল। কিছু শিশু আতঙ্কে চিৎকার করছিল, আবার কেউ কেউ শান্ত থাকার চেষ্টা করছিল। সামনের আসনে থাকা দুই শিশু তাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করে বলেও জানান আহমেদ।
তিনি বলেন, নিজের ফোন ও চশমা সামনের দিকে থাকা একটি মেয়ের হাতে দিয়ে সেগুলো ধরে রাখতে বলেছিলেন, যাতে তিনি বাস থামানোর কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।
এতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে পেরেছেন বলে জানান আহমেদ। তার ভাষ্য, চিকিৎসকদের জীবন ও জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গ্রেজ অ্যানাটমি’ তাকে কিছুটা মানসিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করেছে।
আহমেদ বলেন, জীবনে কখনো মুখোমুখি হতে হবে বলে ভাবেননি- এমন পরিস্থিতিতেও কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, তা এ ধরনের অনুষ্ঠান থেকে কিছুটা শেখা যায়। এসব অভিজ্ঞতা ও কৌশল বাস্তব জীবনেও কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সেন্ট পল পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, স্কুলবাসের চালক চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মীরা। এ ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি।
পরে বাসের শিক্ষার্থীদের অন্য একটি বাসে তুলে বাড়িতে পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন স্কুলের কাউন্সেলররা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানান, অসুস্থ বাসচালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
আকস্মিক বিপদের মুহূর্তে ইব্রো আহমেদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসী পদক্ষেপ সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


