...|...|...

লাইফস্টাইল

গ্রেফতারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১২
Shares
গ্রেফতারের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ছবি: এআই জেনারেটেড

আপনার পরিচিত কেউ বা পরিবারের কোনো সদস্যকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ বলছে, ওকে একটু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে, কাল সকালেই ছেড়ে দেব। আপনারা চলে যান। পুলিশের কথায় আশ্বস্ত হয়ে আপনারা বাড়ি ফিরে গেলেন। কিন্তু পরের দিন শুনলেন তাকে আদালতে চালান করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে, অথবা তাকে অন্য কোনো বড় মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

আমাদের দেশে গ্রেফতারের পর এই প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই সবচেয়ে বেশি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তাই এই সময়টুকু অবহেলা করা মানে জীবনের বড় ঝুঁকি নেওয়া।

আইন কী বলে?

সংবিধান - অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে এবং আইনজীবীর সাথে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ৬১: ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া পুলিশ ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটকে রাখতে পারে না। তাই আসল গ্রেফতারের সময়টি ঠিকভাবে মনে রাখা ও প্রমাণ রাখা খুব দরকার।

ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ১৬৭: ২৪ ঘণ্টায় তদন্ত শেষ না হলে পুলিশকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যেতে হয়। এরপর পুলিশি বা জেল হেফাজতের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত দেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ৪৬ক: গ্রেফতার স্মারক, কর্মকর্তার পরিচয়, পরিবারের কাছে খবর এবং শরীরে আঘাত থাকলে তা লেখা - এসব প্রথম দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।

রিমান্ড পুলিশের একক সিদ্ধান্ত নয়: পুলিশ রিমান্ড চাইতে পারে, কিন্তু তা দেবেন কি না সিদ্ধান্ত নেন ম্যাজিস্ট্রেট। তাই প্রথম আদালত হাজিরার আগেই আইনজীবীকে আঘাত, অসুস্থতা, ওষুধ এবং গ্রেফতারের প্রকৃত সময়ের তথ্য জানানো জরুরি।

প্রথমেই আপনার করণীয়

গ্রেফতারের আসল সময় লিখুন: পরিবার ফোন, CCTV, সাক্ষী বা বার্তার মাধ্যমে সময় ও জায়গা ধরে রাখবে। পুলিশের কাগজে ভিন্ন সময় থাকলে আইনজীবীকে জানান।

থানা ও মামলা খুঁজে নিন: কোন থানায় রাখা হয়েছে, মামলা নম্বর ও ধারা কী এবং তদন্তকারী কে এসব নিশ্চিত করুন। কার সাথে কখন কথা হলো, তাও লিখুন।

আইনজীবী ও ওষুধের ব্যবস্থা করুন: প্রথম আদালত হাজিরার আগেই আইনজীবীকে মামলার তথ্য দিন। নিয়মিত ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও রোগের কাগজ সাথে পাঠান।

আঘাত থাকলে চিকিৎসা চান: গ্রেফতারের আগে বা পরে আঘাত থাকলে ডাক্তার দেখানোর দাবি করুন। ছবি, হাসপাতালের কাগজ ও আদালতে বলা কথা পরে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয় ৷

ম্যাজিস্ট্রেটকে সব বলুন: প্রথম হাজিরায় গ্রেফতারের সময়, কারণ না জানানো, আইনজীবী না-পাওয়া, মারধর বা ওষুধ বন্ধের কথা বলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসা ও রিমান্ডের বিরোধিতা করে লিখিত আবেদন দিন।

যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না

কাল দেখব বলে বসে থাকা: পরিবার দেরি করলে আদালত হাজিরা, চিকিৎসা ও জামিনের প্রস্তুতি নষ্ট হয়।

মৌখিক আশ্বাসে ভরসা: ছেড়ে দেব শুনে আইনজীবী বা আদালতের প্রস্তুতি বন্ধ করবেন না।

আঘাত লুকানো: ভয় বা লজ্জায় চিকিৎসা না চাইলে পরে মারধরের সময় ও কারণ প্রমাণ করা কঠিন হয় ৷

ভুল কাগজে সই: গ্রেফতার স্মারক বা জব্দতালিকায় ভুল সময় বা তথ্য থাকলে ঠিক না করিয়ে সই করবেন না।

প্রতিকার ও অভিযোগের স্থান: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে না নেওয়া, গোপন জায়গায় রাখা বা মারধরের অভিযোগ থাকলে পরিবার দ্রুত আইনজীবীর সাহায্য নেবেন। সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়। প্রথম হাজিরায় চিকিৎসা, আইনজীবীর সাথে দেখা এবং পুলিশি রিমান্ড না দেওয়ার আবেদন লিখিতভাবে দিন। থানার আচরণ নিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে জানানো যায়। ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া বা প্রাণের ভয় থাকলে ৯৯৯ এবং সরকারি আইনি সহায়তার জন্য ১৬৬৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করুন ।