গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ও খোলাহাটি দুই ইউনিয়নের শেষ সীমানা সংলগ্ন ৭৫ নং রেলগেট এলাকার পাশে ঝিনিয়ার বিলে স্বেচ্ছায় শ্রমে খাল খনন করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করা হয়। খাল খনন কাজে দুই ইউনিয়নের শতাধিক বিএনপি, জামায়াত, জমির মালিক ও সাধারণ জনগণ উৎসাহসহ অংশ নেয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় , সদর উপজেলার কুপতলা ও খোলাহাটি দুই ইউনিয়নের মাঝামাঝি ঝিনিয়ার বিলে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি রয়েছে। এই বিলে শুকনো মৌসুমেও জলাবদ্ধতা থাকে। এজন্য ওইসব জমিতে প্রতিবছর ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিশেষ করে প্রতি বছর ইরি বোরো মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধতার কারণে অত্র এলাকার কৃষকদেরকে পানির মধ্যে ধান কেটে নিয়ে আসতে হয়।
এতে করে কৃষকরা যে ফসল উৎপাদন করে তাতে লাভের চেয়ে লোকসান গুনতে হয় বেশী। শুধু তাই নয়, আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। এই জলাবদ্ধতা নিরসন করতে অত্র এলাকার কৃষকরা পূর্বের যে খালটি রয়েছে সেখানেই এই খাল খনন করে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিভিন্ন দফতরে খালটি খনন করার জন্য একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। তাই আমরা নিজেরাই খাল খনন করতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া সরকার একটি জনবান্ধব সরকার। এই সরকার সারাদেশে যেসব খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেই কর্মসূচির সাথে ঝিনিয়ার বিলটি স্থায়ীভাবে খনন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
খাল খননকালে উপস্থিত ছিলেন কুপতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসনাই আল আরাফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, কুপতলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শাকিল প্রামানিক, সাধারণ সম্পাদক জাহির হোসেন, সদর থানা কমিটির বায়তুল মাল সম্পাদক জামিরুল ইসলাম, সদস্য আব্দুল্যাহ ইউসুফ সহ দুই ইউনিয়নের জমির মালিক ও কৃষকরা।
উল্লেখ্য, পূর্ব থেকেই ওই ঝিনিয়ার বিলে একটি খাল রয়েছে। খালটি ঝিনিয়ার বিল থেকে টাকিমারী বিল হয়ে ঘাঘট নদীতে গিয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে খালটি পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি বের হতে না পারায় তাদেরকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


