...|...|...

ধর্ম

খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩০
Shares
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি

সিস্টার ডেইজি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম, বোন সন্ন্যাসিনী, পরিবারের অন্য সদস্যরাও যুক্ত গির্জার সাথে। শৈশব থেকেই খ্রিস্টীয় ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠা সেই নারী একসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশে যান সৌদি আরবে। কিন্তু সেখানে মুসলমানদের ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, পবিত্র কোরআনের শিক্ষা এবং আজানের ধ্বনি তার চিন্তাজগতে পরিবর্তন আনে। দীর্ঘ সাত বছরের প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও পারিবারিক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি।

সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও সত্য অনুসন্ধানের দীর্ঘ যাত্রার গল্প হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। তার বোন ছিলেন কারমেলাইট সন্ন্যাসিনী। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও গির্জার সাথে সম্পৃক্ততা ছিল।

শৈশব থেকেই গির্জা, প্রার্থনা ও খ্রিস্টীয় ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠেন ডেইজি। তবে খ্রিস্টধর্মের কিছু মৌলিক বিশ্বাস নিয়ে তার মনে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে ত্রিত্ববাদ এবং যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তুলত। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হলে তার মৃত্যুবরণের ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে গির্জার সংশ্লিষ্টতা এবং মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুবাদে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান ডেইজি। সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পরিকল্পনা ছিল তার। তার ধারণা ছিল, আরবের মানুষ যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না।

কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে তার সেই ধারণায় পরিবর্তন আসে। তিনি দেখতে পান, মুসলমানেরা ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পবিত্র কোরআনেও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি ডেইজির মনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে এবং ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি পরিবেশ ও আজানের ধ্বনিও তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানদের ইবাদত, আল্লাহর প্রতি নিবেদন এবং ধর্মীয় জীবনযাপন তাকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার পরও সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা তাকে তাড়িত করত। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘দ্য মেসেজ’-এর একটি অংশ দেখার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে। এরপর তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং নিজের দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে থাকেন।

তবে তার এই পরিবর্তন পরিবার সহজভাবে মেনে নেয়নি। বিশেষ করে সন্ন্যাসিনী বোনসহ পরিবারের সদস্যরা তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাকে বিভিন্ন যাজক, সন্ন্যাসী ও বিশপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় সাত বছর ধরে তাকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে বর্ণনায় বলা হয়েছে।

এ সময় এক সন্ন্যাসী তার দেওয়া ইংরেজি কুরআন রাগ করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই সন্ন্যাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ডেইজির কাছে ক্ষমা চান বলে বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে।

দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে ডেইজির সাথে ফাদার টম নামের এক যাজকেরও আলোচনা হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, তার বক্তব্যে ডেইজি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। তবে বর্ণনা অনুযায়ী, ফাদার টম তাকে নিজের বিবেক ও সত্য অনুসন্ধানের গুরুত্ব বোঝান। এতে নিজের বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ পান ডেইজি।

একপর্যায়ে ছোট দুই পুত্রকে সাথে নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি মসজিদে যান তিনি। সেখানে এক ফিলিস্তিনি নারী তাকে নামাজের নিয়ম শেখান। এরপর জীবনে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের মতো নামাজ আদায় করেন ডেইজি এবং আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন।

বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম সিজদার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। দীর্ঘদিনের প্রশ্ন, দ্বিধা ও অনুসন্ধানের পর এই অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অনুভব করেন।

ডেইজির ইসলাম গ্রহণের পেছনে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। ঈসা (আ.) আল্লাহর সম্মানিত নবী ও রাসুল এবং মরিয়ম (আ.) পবিত্র ও মর্যাদাবান নারী। পবিত্র কুরআনে তাদের জীবন ও ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্মের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডেইজির জীবনযাপনে পরিবর্তন দেখে তার মেয়েও ইসলাম গ্রহণ করেন।

সিস্টার ডেইজির এই কাহিনি ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও পারিবারিক বাধার মধ্য দিয়ে একটি নতুন জীবনদর্শন গ্রহণের গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা, জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সূত্র এখানে উল্লেখ নেই। তাই ঘটনাগুলোকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।