...|...|...

ক্যাম্পাস

কে এই আবু তৈয়ব, কেন সরালেন জিন্নাহর ছবি?

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:৫৮
Shares
কে এই আবু তৈয়ব, কেন সরালেন জিন্নাহর ছবি?

আবু তৈয়ব মো. হাবিলদার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছবিটি সরিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব মো. হাবিলদার। এ ঘটনার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

জিন্নাহর ছবি সরানোর পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- কে এই আবু তৈয়ব এবং কেন তিনি এমন প্রতিবাদ করলেন?

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবু তৈয়ব ২০০১–০২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে ভর্তি হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তার স্নাতক শেষ হয়নি। বর্তমানে তিনি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন বলে জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন আবু তৈয়ব। পরে প্রশাসন তার আবেদন অনুমোদন করলে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।

এরপর ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় আসেন আবু তৈয়ব। ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ। তবে ভোটের হিসাবে তেমন সাড়া পাননি তিনি। নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০টি।

এবার ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরানোর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবু তৈয়ব।

ছবিটি সরানোর কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তৈয়ব গণমাধ্যমকে জানান, যে জিন্নাহ বাংলাদেশের মানুষের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন, তার ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা তিনি মেনে নিতে পারেন না। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে জিন্নাহর অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আবু তৈয়বের অভিযোগ, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি জানান, যে জিন্নাহ এ দেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করেছিলেন এবং উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন, তাকে ডাকসুতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিহাসের ওপর এমন কালিমালেপনের বিরুদ্ধে তিনি ছোট্ট একটি প্রতিবাদ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন আবু তৈয়ব। তার মতে, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘রক্তের গৌরব’ বহন করে। তাই ডাকসু সংগ্রহশালায় দেশের ইতিহাস তুলে ধরার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।