...|...|...

ঢাকা

কৃষকলীগ নেতাকে আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬, ভোর রাত ৫:১৯ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:১১
Shares
কৃষকলীগ নেতাকে আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান।

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী প্রতাবপুর এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকের পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে ছাড়া পাওয়ার পর ওই কৃষকলীগ নেতা তার পরিবারের সদস্যরা এক স্থানীয় মুদি দোকানিকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানি কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান। আর ভুক্তভোগী নেতার নাম মতিন মিয়া, যিনি কোনাবাড়ী ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি।

এলাকাবাসী অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুল হাসানের নেতৃত্বে - জন পুলিশ সদস্য কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে তারা ১১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে আটক করে। অভিযোগ উঠেছে, আটকের পর মতিন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা এসআই কামরুল হাসানকে নগদ লাখ টাকা দিলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের পরামর্শেই পরদিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মতিন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় মুদি দোকানি নূর মোহাম্মদের মাধ্যমে। গত ২২ জুন রাতে নূর মোহাম্মদ নিজের দোকানে বসে থাকার সময় পুলিশ এসে তার কাছে মতিনের বাড়ির অবস্থান জানতে চায়। সরল বিশ্বাসে নূর মোহাম্মদ বাড়িটি চিনিয়ে দিলে পুলিশ মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যায়।

টাকার বিনিময়ে ওই রাতেই মতিন মুক্ত হওয়ার পর, পরদিন সকালে মতিনের ভাই মো. আলম ওই মুদি দোকানে গিয়ে নূর মোহাম্মদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার অপরাধে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী মুদি দোকানি নূর মোহাম্মদ বলেন,আমি গরীব মানুষ, দোকান করে খাই। পুলিশ এসে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি কোনদিকে জানতে চায়, আমি শুধু দেখিয়ে দিয়েছি। এরপর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। রাতেই শুনেছি দুই লাখ টাকা নিয়ে পুলিশ তাকে ছেড়েও দিয়েছে। এখন তারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ জানান, ওই নেতাকে আটক এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়ীকে হুমকির বিষয়ে আমি শুনেছি। তবে এই বিষয়ে সরাসরি এখনও আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।