...|...|...

বিশ্ব

কংগ্রেসে এখন ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১০
Shares
কংগ্রেসে এখন ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুর্দান্ত সাফল্যের সুবাদে আগামী নতুন বছরের শুরু থেকেই কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের হাতে তুলে নিতে চলেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমে কড়া নজরদারি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য সব লক্ষ্য বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র এক প্রতিবেদনে এই সমীকরণ উঠে এসেছে।

ডেমোক্র্যাটরা যেসব ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নানামুখী কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর তদন্ত পরিচালনা করার এখতিয়ার পাবেন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের বাণিজ্যিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব, নানা অভিযোগ ও দুর্নীতির বিষয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং আলোচিত ‘এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্র’ নিয়ে জোরালো তদন্ত শুরু করার সুযোগ রয়েছে তাদের হাতে।

এছাড়া সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার পদ এবং বিচার বিভাগে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা শক্তিশালী বাধা বা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের অনুমোদন আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের থাকবে।

যদিও প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণ শক্তিতে ডেমোক্র্যাটরা চাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে, তবে তাত্ত্বিকভাবে তা সফল করা বেশ জটিল। কারণ, অভিশংসন বিল পাস হওয়ার পর সিনেটে প্রেসিডেন্টকে অপরাধী বা দোষী সাব্যস্ত করতে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৭টি ভোটের প্রয়োজন হবে, যা ডেমোক্র্যাটদের এককভাবে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ট্রাম্পকে কেবল অভিশংসনের মাধ্যমে পদচ্যুত করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভবই বলা চলে।

যেসব ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেকোনো আইন বা বিল আটকে দেওয়ার বা ‘ভেটো’ প্রয়োগ করার ক্ষমতা অটুট থাকবে। যেকোনো বিল পাস হওয়ার জন্য সাধারণত রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত স্বাক্ষর বা অনুমোদন অপরিহার্য।

ট্রাম্পের এই ভেটো ক্ষমতাকে অকার্যকর বা অগ্রাহ্য করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান আসন বিন্যাসে সেই পরিমাণ বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে পারে।

পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসের বৈদেশিক নীতি বা পররাষ্ট্রনীতির ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাও ডেমোক্র্যাটদের জন্য বেশ কঠিন হবে। বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা কিংবা যেকোনো সামরিক তৎপরতা সীমিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সংবিধান ও প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ পাওয়ারের কারণে কংগ্রেসের এখতিয়ার নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে।

দলীয় ঐক্যের অভাব ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

রিপাবলিকান শিবিরের কড়া বিরোধিতার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও তাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা উচিত কি না, কিংবা স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতির সুনির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের মধ্যেই বেশ বড় ধরনের নীতিগত বিভাজন রয়েছে।

তাছাড়া ২০২৮ সালের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখে প্রধান প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানরাও ডেমোক্র্যাটদের জন্য কোনো রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করা সহজ করে দেবে না।

সব মিলিয়ে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কার্যকর নজরদারি, দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত এবং আইন প্রণয়নের টেবিলে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে প্রেসিডেন্টের শক্তিশালী ভেটো ক্ষমতা, সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুপস্থিতি এবং নিজেদের দলের ভেতরের অনৈক্যের কারণে বড় ধরনের কোনো আমূল নীতিগত পরিবর্তন আনা দলটির জন্য রীতিমতো কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হবে।