চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে ফল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি জানান, আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা অন্য বোর্ডের তুলনায় পরে শেষ হয়েছে। তবে ফল প্রস্তুতের কাজে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে নির্ধারিত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল।
তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দ্রুত ফল প্রস্তুতের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে তাদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি।
এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।
এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
সব মিলিয়ে ফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হতে দেরি হলেও অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ফল তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।



