ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সব ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন, যা দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম গ্লোবস জানায়, দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সাধারণ ও বিশেষ ব্যালটের গণনা শেষ করেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আরও কিছু যাচাই বাকি রয়েছে।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। সে হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। বিরোধী জোটের ঘাটতি ১৩টি আসন।
কোন দল কত আসন পেল
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন। বেয়াহাদ পেয়েছে ১২টি, আরবদের জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং ডেমোক্র্যাটস পার্টি পেয়েছে আটটি আসন।
এ ছাড়া রা’আম পেয়েছে আটটি আসন, ইয়িসরায়েল বেইতেনু সাতটি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম সাতটি, ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি, শাস ছয়টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিজম ছয়টি আসন পেয়েছে।
এই ফল অনুযায়ী, লিকুদ, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, ওতজমা ইয়েহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়নিজমকে নিয়ে গঠিত নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, ইয়াশার, বেয়াহাদ, ডেমোক্র্যাটস ও ইয়িসরায়েল বেইতেনুকে নিয়ে বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলিয়ে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা ১৯।
সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো
নির্বাচনে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যেই রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে।
আরব দলগুলোর এবারের ফল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিদায়ী পার্লামেন্টে আরব প্রতিনিধিত্ব ছিল ১০টি আসন। নতুন নির্বাচনে তা বেড়ে ১৯-এ পৌঁছেছে। আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বাড়লেও তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা রাজনৈতিকভাবে সহজ হবে না। বিরোধী জোটের কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে সংখ্যার হিসাবে সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণে সরকার গঠিত হবে, তা অনিশ্চিত।
নেতানিয়াহুর সামনে কী বিকল্প
সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক শিবির হিসেবে রয়েছে। তিনি বিরোধী শিবিরের কোনো অংশকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা আইজেনকট আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেন।
কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভোটের পরিসংখ্যান
গ্লোবসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৬টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ৫৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬৪টি ভোট বৈধ এবং ২৫ হাজার ৭২টি ভোট বাতিল হয়েছে।
সব ভোট গণনা শেষ হলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত যাচাই এখনো বাকি। ফলে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগে আসনবণ্টনে পরিবর্তন আসে কি না, তা নজরে থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স।

