...|...|...

বিশ্ব

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

ইরানের ৭ দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নভেম্বরে ফের হামলার ইঙ্গিত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:০৪
Shares
ইরানের ৭ দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নভেম্বরে ফের হামলার ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক লড়াই থামানোর লক্ষে ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে আগামী নভেম্বরের কংগ্রেসশনাল নির্বাচনের পর তিনি ইরানে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।

এর আগে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে কাতারভিত্তিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের শান্তি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তেহরান।

তিনি বলেন, একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা প্রণালী পুনরায় সচল করার সাত দিনব্যাপী কাউন্টডাউন এবং আঞ্চলিক সংঘাত সাময়িক থামিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। আরাঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যদি কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সদিচ্ছা থাকে, তবে সবকিছুই এখন প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার দাবিগুলো পুরোপুরি মেনে নেবে কি না—সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান ছিলেন।

গত সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক রুট দিয়ে তেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো এতে জড়িয়ে পড়েছে।

কী ছিল ইরানের শান্তি প্রস্তাবে?

আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তবে বিবদমান পক্ষগুলো পরস্পর সম্মত বিষয়গুলোর ওপর আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু করতে পারবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতার অবসান ঘটবে। এর বিনিময়ে এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল অবমুক্ত করা এবং দেশটির তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

কূটনীতি থেকে ফের সংঘাতের পথে?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের বহু চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারপর থেকে এই যুদ্ধ কখনও কিছুটা থিতু হয়েছে, আবার কখনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইরানের প্রচলিত সামরিক বাহিনী ও ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এর জবাবে ইরান ও তার মিত্ররা এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিরা সৌদির স্বার্থে আঘাত হেনেছে। এছাড়া ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা পাইপলাইনে হামলা চালিয়ে সাময়িকভাবে সৌদি তেল সরবরাহ ব্যাহত করেছে। এর পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ।