...|...|...

বিশ্ব

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে ঘুষি-লাথি, বিরোধী এমপিদের দিকে চেয়ার ছুড়লেন ডেপুটি স্পিকার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৯
Shares
আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে ঘুষি-লাথি, বিরোধী এমপিদের দিকে চেয়ার ছুড়লেন ডেপুটি স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিবেশন চলাকালে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এমপিদের পরস্পরকে ঘুষি ও লাথি মারতে দেখা যায়। এমনকি বিরোধী আইনপ্রণেতাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারেন দেশটির ডেপুটি স্পিকার। পুরো ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির অডিট চেম্বারের একজন সদস্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনার সময় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের এক আত্মীয়ের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।

ওই আত্মীয় নির্বাচনের আগে নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাখোয়ান বলেন, বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে নারীদের ‘সন্তুষ্ট’ করার জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই বক্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনো ক্ষমা চাননি।

চাখোয়ানের বক্তব্যের জবাবে প্রথমে নিজের আসনে বসেই প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী জোট স্ট্রং আর্মেনিয়ার নেতা কারাপেতিয়ান। পরে তিনি বক্তৃতামঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের আইনপ্রণেতারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

সংসদ কক্ষের ভেতরে শুরু হওয়া বাগ্‌বিতণ্ডা দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে আইনপ্রণেতাদের পরস্পরকে ঘুষি ও লাথি মারতে দেখা যায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ পার্লামেন্ট ভবনের করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে ডেপুটি স্পিকার ভাহাগন আলেক্সানিয়ানকে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য সংসদ সদস্যরা সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়। এ সময় অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।

পার্লামেন্ট স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান সংঘর্ষের জন্য বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ানকে দায়ী করেছেন। আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরতির সময় ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে চাখোয়ানের বক্তব্যে আপত্তিকর কিছু পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

রুবিনিয়ানের অভিযোগ, কারাপেতিয়ান নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং আসন ছেড়ে উঠে চাখোয়ানকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য গারনিক দাভতিয়ানও চাখোয়ানকে আঘাত করেন বলে দাবি করেন স্পিকার।

তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টে কী ঘটছে, তা জনগণ যাতে সরাসরি দেখতে পারে, সে জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই সম্প্রচার চালু রাখা হয়েছিল।

তবে স্পিকারের বক্তব্য সংঘর্ষের একটি পক্ষের বিবরণ। ঘটনার সম্পূর্ণ দায় নির্ধারণে ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংঘর্ষের পর পার্লামেন্ট ভবনে একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ইউএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্রং আর্মেনিয়া দলের সংসদ সদস্য আন্দ্রানিক গেভোরগিয়ানের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। বিরোধী দলের আরেক আইনপ্রণেতা রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাকও ছিঁড়ে যায়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় নিরাপত্তাকর্মীরা পার্লামেন্ট ভবনের করিডোরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন, যাতে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে না পড়ে।

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। অক্টোবরের শুরুর দিকেও ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

ওই ঘটনার সূত্রপাত হয় স্ট্রং আর্মেনিয়ার সদস্য এডগার গাজারিয়ান পার্লামেন্ট স্পিকার রুবিনিয়ানের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যদের বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ তোলার পর।

সাম্প্রতিক ঘটনাটি আর্মেনিয়ার সংসদীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার চিত্র সামনে এনেছে। তবে এই সংঘর্ষের পর কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।