...|...|...

বিশ্ব

আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে রাশেদ খানের আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: জুলাই ঐক্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:০৭
Shares
আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে রাশেদ খানের আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: জুলাই ঐক্য

ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের আচরণকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে জুলাই ঐক্য। একই সঙ্গে আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী।

বিবৃতিতে বলা হয়—

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে দৈনিক আমার দেশ দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রতিবাদী সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পত্রিকাটি দীর্ঘ সময় প্রকাশনা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা এবং ক্ষমতাসীনদের অন্যায়ের সমালোচনা করাই যেন পত্রিকাটির জন্য অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সময়েও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কারও কারও আচরণে সেই পুরোনো অসহিষ্ণু মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান চরম ভয়াবহ ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এটি শুধু একটি পত্রিকার প্রতি অসম্মান নয়, জুলাই ঐক্য মনে করে, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা।

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই; কোনো সংবাদমাধ্যমের সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কারও পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। নিজের বক্তব্য তুলে ধরুন, তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সমালোচনা করুন। কিন্তু পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, সাংবাদিকদের হেয় করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধ মবের পরিবেশ তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনাও গভীর উদ্বেগের। আমরা কোনো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার যোগসূত্র টানতে চাই না। তবে পত্রিকাটির ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রকাশনা বন্ধের অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই; যারা আমার দেশ-এর কণ্ঠরোধ করতে চায় তাদের মনে রাখা উচিত—একটি পত্রিকার ওপর আঘাত মানে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। এখন আর এটি স্বৈরাচার হাসিনার বাংলাদেশ নয়। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত নতুন বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করা যাবে, ভিন্নমত প্রকাশ করা যাবে এবং সাংবাদিকরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, তার রাজনৈতিক সহকারীর এ ধরনের আচরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলে তার জবাব দিতে হবে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে, ডিজিটাল মব কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।

যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকারও অক্ষুণ্ন থাকতে হবে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকবে।