...|...|...

ক্যাম্পাস

আমাদের কাছে সবকিছু আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই: কুবি উপাচার্য

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৫৪
Shares
আমাদের কাছে সবকিছু আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই: কুবি উপাচার্য

কুবি উপাচার্যের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা। ছবি: টাইমস টুডে

‘আমাদের কাছে সমস্ত কিছু আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা খোঁজে। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ক্যাম্পাস ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নিরাপত্তা পুরো কুমিল্লার সম্মানের সাথে জড়িত। শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দক্ষিণ ক্যাম্পাস পর্যন্ত সড়কে দ্রুত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, আধুনিক সিসিটিভি স্থাপন এবং সড়ক প্রশস্ত ও সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থী অপ্রতিমের নিখোঁজ ও পরে লাশ উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকেই আমাদের সন্তান নিখোঁজ ছিল। তাকে খুঁজতে আশপাশের বন-জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়েছে। কুমিল্লার র‍্যাব থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেছে। তারা তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, আমরাও চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা অপ্রতিমকে খুঁজে পাইনি, তার লাশ পেয়েছি।’

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।

সভায় ক্যাম্পাসসংলগ্ন ময়নামতি জাদুঘরের কাছে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল দেওয়া হচ্ছে। তবে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলে তাদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা উল্লেখ করে লিখিত আবেদন করতে হবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় যে সমাজে অবস্থিত, সেটিরই একটি অংশ। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যার জায়গা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের লালমাই পাহাড় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় রাতে টিউশন বা লাইব্রেরি থেকে ফেরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও প্রশাসন, জেলা পরিষদ, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, কুমিল্লা ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পরিবহন চালক, হোটেল ও আবাসিক মেস মালিকরা সভায় অংশ নেন।