...|...|...

জাতীয়

আদানির বন্ধ ২ ইউনিট থেকে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৫৯ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪
Shares
আদানির বন্ধ ২ ইউনিট থেকে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খণ্ডে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট থেকে বাংলাদেশে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে টানা প্রায় ৮৪ ঘণ্টার বাড়তি চাপের পর দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, ‘ইউনিটটি কিছুক্ষণ আগে গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়েছে। তবে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’

আদানি পাওয়ারের একটি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালুর প্রক্রিয়া শেষ করার সাথে সাথে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে এসেছিল। ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।

আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থাও চাপে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় তিন হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। ৮০০ মেগাওয়াটের এই ইউনিটটি চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।