...|...|...

বরিশাল

অস্তিত্ব সংকটে তালতলীর রাখাইন সম্প্রদায়, সুরক্ষায় প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, রাত ১২:০৭ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:০৩
Shares
অস্তিত্ব সংকটে তালতলীর রাখাইন সম্প্রদায়, সুরক্ষায় প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

সমুদ্রের নোনা বাতাস আর সবুজের বুক চিরে গড়ে ওঠা বরগুনার তালতলীতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে প্রাচীন রাখাইন সম্প্রদায়। তবে ভূমি সংকট, নদীভাঙন, তাঁতশিল্পের পতন, নতুন কর্মসংস্থানের অভাব এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষা ভুলে যাওয়ার প্রবণতায় গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপকূলের এই জনপদের রাখাইনরা।

একসময় বরগুনা জেলায় হাজার হাজার রাখাইনের বসবাস থাকলেও সময়ের সাথে তাদের সংখ্যা কমে এসেছে। বর্তমানে তালতলী উপজেলার ১৩টি পাড়ায় প্রায় তিন হাজার রাখাইন বসবাস করছেন।

তাদের জীবিকার প্রধান মাধ্যম ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। তবে কাঁচামালের চড়া দাম ও বাজার সংকটের কারণে এই শিল্প আজ হুমকির মুখে। পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাত্রা ও বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনার প্রভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে কমছে।

নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করেও বৌদ্ধবিহারকে কেন্দ্র করে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রদায়টির সুরক্ষায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রাখাইন পরিবারগুলোর জন্য তিনটি হ্যান্ডলুম, নারীদের জন্য ছয়টি বাইসাইকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে তিনটি সেলাই মেশিন ও একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাখাইন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা।

উপজেলার ছাতনপাড়ার রাখাইনদের জন্য একটি ‘ভাষা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান ইউএনও।

এ ছাড়া এডিপির আওতায় বৌদ্ধবিহার সংস্কারের জন্য ৮ লাখ টাকা এবং শ্মশানঘাট সংস্কারের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপকূলের ইতিহাসের এই জীবন্ত সাক্ষীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, যথাযথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে তালতলীর প্রাচীন রাখাইন সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।