...|...|...

জাতীয়

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড

অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩১ | আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০১
Shares
অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পরিচালনার জন্য যেসব নথি ও কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করছে, তার অনেকগুলো এখনো আসামিপক্ষকে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে আদালতের সামনে যেসব বিষয় উপস্থাপন করা প্রয়োজন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র না পাওয়ায় তা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় চাওয়া হয়।

পরে আদালত আসামিপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে এর মধ্যে মামলার সব কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি আসামিপক্ষকে সরবরাহ করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

শাপলা চত্বরে ৬১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং মামলায় এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, ২০২৪ সালের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম মামলা, যেখানে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আইনি আলোচনা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের অভিযোগে আদৌ অভিযোগ গঠন করা যায় কি না এবং মামলাটি এই ট্রাইব্যুনালে চলতে পারে কি না—এসব বিষয়ে আগামী ১ নভেম্বর শুনানিতে আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি তুলে ধরবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনই প্রকাশ করার সময় আসেনি। অভিযোগ গঠনের শুনানির দিনই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

এদিন সকালে মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

মামলায় মোট আসামি ৪১ জন। হাজির করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

এ ছাড়া সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপাও রয়েছেন।

মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।