কর্মস্থলে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন ও সময়ের সুষম ব্যবহার ইসলামী জীবনব্যবস্থায় অন্যতম মৌলিক আমানত হিসেবে গণ্য। পেশাগত জীবনে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়ার ফলে উপার্জিত বেতনের বৈধতা নিয়ে ইসলামী ফিকহ ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পুরো সময় কাজ না করলে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে পরিপূর্ণ বেতনও হালাল হবে না। নিজ সন্তান ও পরিবারের জন্য বৈধ উপার্জনই হোক জীবনচলার অবলম্বন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১)
অফিসে কাজের ভান করে বসে থাকা বা বসের চোখ ফাঁকি দিয়ে দায়িত্ব অবহেলা করা সরাসরি এই হাদিসের আওতাভুক্ত।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তা থেকে দান-খয়রাত করলেও কবুল হবে না এবং তিনি তার এই সম্পদের বরকত পাবে না। পরিত্যক্ত হারাম সম্পদ তার জাহান্নামের পাথেয় হবে’ (মুসনাদে আহমাদ)।
নবীজি (সা.) আরও বলেছেন, ‘অনেক মানুষ দীর্ঘ সফর করে কাবায় আসেন এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে বলতে থাকেন, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করো ইত্যাদি! অথচ তার কোনো দোয়াই কবুল হয় না’ (মেশকাত)। যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহারসামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ হারাম পয়সার, এমতাবস্থায় তার ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ-রোজা কী করে কবুল হতে পারে? হাদিসের আরও কঠোর ভাষ্য হলো, নবীজি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম উপার্জনের এক লোকমা তার পেটে ঢোকাবে, ৪০ দিন পর্যন্ত তার নামাজ-রোজা, ইবাদত কবুল হবে না’ (তাবরানি)।
আবার অনেক জায়গায় সাধ্যের চেয়ে বোঝা বেশি চাপিয়ে দেয়। এটি একদম অনুচিত। মানবতার নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রমিকের অধিকার আদায়ে চূড়ান্ত মূলনীতি বলে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ : ২৪৩০) এদিকেও নজর দিতে হবে। পুঙ্খানুপুঙ্খ কাজ আদায় করে অনেক কর্তাব্যক্তি ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে গড়িমসি করেন। ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধে হেলা করায় এদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
পরিশেষে, কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা বজায় রাখা কেবল পেশাগত সফলতার শর্ত নয়, বরং এটি একজন মুমিনের ঈমান ও আমানতদারিতার বড় পরীক্ষা। সাময়িক সুবিধা পেতে কাজে ফাঁকি দেওয়া বা অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা করা উপার্জনকে তো প্রশ্নবিদ্ধ করেই, পাশাপাশি পুরো পরিবারের জীবনের বরকতও কেড়ে নেয়। তাই সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল ব্যক্তি, সমাজ ও পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। কাজের সুষম বণ্টন ও আমানত রক্ষার মাধ্যমেই আমাদের প্রতিটি উপার্জনকে পুত-পবিত্র রাখাই হোক মূল লক্ষ্য।


