পরিবার, প্রকৃত বন্ধুত্ব, ধর্মীয় বিশ্বাস বা জীবনদর্শন এবং অর্থপূর্ণ কাজ—সুখী জীবনের জন্য এই চারটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সমাজবিজ্ঞানী ও সুখবিষয়ক গবেষক আর্থার ব্রুকস। তার মতে, বড় পদ, বিপুল সম্পদ কিংবা বিলাসবহুল জীবন স্থায়ী সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং আনন্দ, তৃপ্তি ও জীবনের অর্থবোধের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে সুখের ভিত্তি।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সাবেক এই অধ্যাপক প্রায় ৩০ বছর ধরে সুখ নিয়ে গবেষণা করছেন। সিইও, বিলিয়নেয়ার ও বিভিন্ন পেশার সফল মানুষের সাথে কাজ করে তিনি দেখেছেন, পেশাগত সাফল্য থাকলেও অনেকে নিঃসঙ্গতা, উদ্বেগ ও অতৃপ্তিতে ভোগেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুখের উপাদান, প্রযুক্তির প্রভাব, কাজের চাপ এবং অর্থ ব্যয়ের অভ্যাস নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
আর্থার ব্রুকস বলেন, আমি মূলত এমন মানুষদের নিয়ে কাজ করি, যারা কখনো থামতে চান না। তারা সব সময় কাজ করে যান। কঠোর পরিশ্রমের কারণে তাদের অনেকেই পৃথিবীর সবচেয়ে সফল মানুষের তালিকায় জায়গা করে নেন।
তবে তাদের ব্যক্তিত্বে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকে। তারা মনে করেন, যত বেশি পরিশ্রম করবেন, তত ভালো ফল পাবেন। কিন্তু অনেক সময় তারা জীবন উপভোগ করতে পারেন না। অর্জন নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারেন না, কারণ তাদের মনে হয়, এখনো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো হয়নি।
তিনি বলেন, আমি যাদের সাথে কাজ করি, তাদের অনেকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তারা কেবল ব্যবসা বা পেশাগত সাফল্য থেকেই তৃপ্তি পান। এর ফলে তারা কাজের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়েন।
অতিরিক্ত কাজের অভ্যাস সম্পর্কের জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে। পৃথিবীর অনেক সফল মানুষকে দেখি, যারা দাম্পত্য জীবনে সমস্যায় পড়েছেন কিংবা সন্তানদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তাদের আমি বোঝানোর চেষ্টা করি, কাজ কিছুটা কমিয়ে জীবনের অন্য দিকগুলোতে বেশি সময় দিতে হবে।
আমি নিজেও কাজের প্রতি আসক্ত। সারা কর্মজীবনে সপ্তাহে ৬০ থেকে ৮০ ঘণ্টা কাজ করেছি। তাই নিজের পরামর্শ নিজেকেও মেনে চলতে হয়। কখনো কখনো অন্যদেরও আমাকে পরামর্শ দিতে হয়, যাতে আমি নিজের লেখা বইয়ের কথাগুলো নিজের জীবনেও প্রয়োগ করি।

