অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ঘায়েল করার স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, জয়ের দূরত্ব এখন মাত্র ৫৭ রানের- এমনই এক রুদ্ধশ্বাস মঞ্চ তৈরি হয়েছে টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে।
প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার জবাবে বাংলাদেশ তুলেছিল পাহাড়সম ৪২৬ রান। এরপর প্রতিপক্ষকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর হাতছানি জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তা ধরা দেয়নি সফরকারীদের হাতে- অজিরা দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় ২৮৪ রানে, লিড দাঁড়ায় মাত্র ৫৬ রানের।
এই লড়াইয়ের নায়ক একজনই- ক্যামেরন গ্রিন। একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনি একাই টেনে নিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে, সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মিছিলেও তার ব্যাট থামেনি। শেষমেশ ২০১ বলে ৪টি চার আর ১টি ছক্কায় সাজানো ১০৪ রানে থামেন তিনি, হাসান মাহমুদের অফস্টাম্প বরাবর ডেলিভারি তার স্টাম্প উপড়ে ফেলে। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসেও তোলেন উইকেট, ম্যাচে তার শিকার দাঁড়ায় ৯টি।
তবে গ্রিনের এই লড়াকু ইনিংস পুরোপুরি নিষ্কণ্টক ছিল না। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৯৫ রানে দাঁড়িয়ে তাসকিন আহমেদের বলে জীবন পান তিনি, আর সেই জীবনকে কাজে লাগিয়েই স্পর্শ করেন শতরানের মাইলফলক। যদিও দলের বিপর্যস্ত অবস্থায় শতক পেলেও ইনিংসটাকে আর দীর্ঘায়িত করতে পারেননি।
লাঞ্চের পর ম্যাচের মোড় ঘুরতে থাকে আরও দ্রুত। মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেট ফেলেন তাসকিন-লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি ৩৪ বলে ১৮ রান করে, গ্রিনের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৩ রানের। তখন ২৫০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২ রানের সামান্য লিড নিয়ে ধুঁকছিল স্বাগতিকরা।
এর আগে চতুর্থ দিনের সকালটা ছিল পুরোপুরি মেহেদী হাসান মিরাজময়। স্পিনের জাদুতে একে একে তুলে নেন অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার আর প্যাট কামিন্সকে। ক্যারিকে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ- ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটনের ক্যাচে পরিণত হন ক্যারি। এরপর ১৩ মাস ও ১৩ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি করা গ্রিনের পাশ থেকে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওয়েবস্টার, ৫ রানে বোল্ড হয়ে যান মিরাজের বলে। কামিন্সও বেশিদূর যেতে পারেননি, মাত্র ৮ রানে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন- এটি ছিল মিরাজের সে দিনের তৃতীয় ও ম্যাচে তার চতুর্থ শিকার। এই উইকেটেই ২০৭ রানে সপ্তম ব্যাটার হারায় অস্ট্রেলিয়া, তখনও তারা পিছিয়ে ছিল ২২৮ রানে।
দিনের শেষটায় আর রক্ষা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। দলগত ২৭৮ রানে নবম উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। মিরাজ তার পঞ্চম শিকার তুলে নিয়ে অলআউট করেন স্বাগতিকদের, শেষ ব্যাটার নাথান লায়ন ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে।
এখন বাকিটা কেবল সময়ের অপেক্ষা- অস্ট্রেলিয়ার নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের চাই আর মাত্র ৫৭ রান।

