ঐকমতের বাইরে কথা বললে রাজনীতি ও সমাজে বিভেদ বাড়বে : আমীর খসরু!
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর যে ঐকমতে পৌঁছানো হয়েছে, সেটি মেনে নেওয়া উচিত। ঐকমতের বাইরে গিয়ে কথা বললে রাজনীতি ও সমাজে বিভেদ বাড়বে, যা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।
গতকাল শুক্রবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘আজ একটি ঐকমতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে। এটি গণতন্ত্রকে যেমন এগিয়ে নেয়, তেমনি সমাজকেও সামনে নিয়ে যায়। আমরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি, বিশেষ করে গত ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সংলাপের মাধ্যমে সেই ভাঙন কাটিয়ে উঠতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংলাপ করব, ঐকমত্যে পৌঁছব, যতটুকু সম্ভব। যেটুকু ঐকমত্যে পৌঁছাতে যাবে না, সেটি সহনশীলতার সঙ্গে মেনে নিতে হবে।’
‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো সরকার একা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারে না। এজন্য সবার অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা জরুরি। প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক ছিলেন এমন একজন দূরদর্শী মানুষ, যিনি দৈনিক আজাদীর মাধ্যমে বিশ্বাস করতেন- একদিন এই দেশ স্বাধীন হবে। "
তিনি বলেন, "মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনা। এখন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। "
দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, "ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত পত্রিকাকে ‘মফস্বল পত্রিকা’ বলা একটি বৈষম্যমূলক ধারণা। " তাঁর ভাষায়, “আমার বাবা আজাদী বের করেছিলেন চট্টগ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা সরকারের সামনে তুলে ধরার জন্য, ঢাকায় স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নয়।”
দৈনিক আজাদীর অর্থায়নে এবং পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে মিলনায়তনটি সংস্কার ও নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি। সঞ্চালনা করেন অন্তর্বর্তী কমিটির সদস্য গোলাম মাওলা মুরাদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চাপ্টারের চেয়ারম্যান ওসমান গণি মনসুর, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, দৈনিক আজাদীর নির্বাহী সম্পাদক শিহাব মালেক, প্রেসক্লাব অন্তর্বর্তী কমিটির সদস্য মুস্তফা নঈম, বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালে নোমান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, এ্যাবের সভাপতি জানে আলম সেলিম এবং বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মোহাম্মদ আরিফ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


