পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আইসিবিকে হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল সরকার
রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (আইসিবি) এর আর্থিক সংকট উত্তরণ ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সুদযুক্ত ঋণ হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুঁজিবাজারে এ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। ৫ শতাংশ সুদসহ বেশকিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে সম্প্রতি এ অর্থ মঞ্জুরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বছরের পর বছর ধরে লাভজনক অবস্থানে থাকা আইসিবি এখন লোকসানে ডুবেছে। পরিস্থিতি এমন যে প্রতিষ্ঠানটির এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া, অতি মূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগ এবং শেয়ারের মূল্যে ধস প্রতিষ্ঠানটিকে এ অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি ঋণে কতটুকু উন্নয়ন হবে সে নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা লোকসান করেছে আইসিবি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের লোকসান ১৫১ কোটি টাকা। এছাড়াও ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে আইসিবির আনরিয়ালাইজড লস বা ফান্ড ইরোশন ৫ হাজার কোটি টাকা।
এক হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার সময় বেশকিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে– এ অর্থ আইসিবির অনুকূলে সুদযুক্ত সরকারি ঋণ হিসেবে গণ্য হবে, যা আগামী ১০ বছরে (১ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) ৫ শতাংশ সুদে ষাণ্মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ অনুমোদিত ব্যয় খাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাবে না।
গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদ ১ম কিস্তির সঙ্গে একত্রে পরিশোধযোগ্য হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ের তারিখ হতে ঋণচুক্তিটি কার্যকর হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ আইসিবি'র নিরীক্ষিত হিসাবের সঙ্গে সমন্বয়যোগ্য হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষা করে তার রিপোর্ট আগামী ৩ মাসের মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। অর্থ বিভাগ হতে পূর্বের কোনো বকেয়া থাকলে তা আগে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের প্রতি কিস্তি অর্থ চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমাপূর্বক-এর অনুলিপি সরাসরি অর্থ বিভাগের ডিএসএল অধিশাখায় পাঠাতে হবে।


