অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত মার্কিন অভিনেত্রী বারবারা ব্যারি ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ফুসফুসের রোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ আইনের আওতায় চিকিৎসা সহায়তায় মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেত্রী। গত ২৮ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
বারবারার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে জেন হার্নিক। তিনি বিষয়টি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন।
অভিনেত্রীর প্রতিনিধিও পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল এইড ইন ডাইং আইনের বিধান অনুসরণ করেই তার মৃত্যু হয়েছে। বারবারা নিজেও দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের সমর্থক ছিলেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এ আইনে স্বাক্ষর করেন। একই বছরের আগস্টে আইনটি কার্যকর হয়। এর আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ও অন্যান্য সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চিকিৎসা সহায়তায় মৃত্যুর আবেদন করতে পারেন।
নিজের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বারবারা ব্যারি। তিনি ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস নামের দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাময়-অযোগ্য ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
২০১৪ সালে প্লেবিল সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন ও অসুস্থতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সে সময় বারবারা জানিয়েছিলেন, নানা শারীরিক জটিলতা সত্ত্বেও তিনি কর্মব্যস্ত ও পরিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নিজের কাজ এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।
বারবারা ব্যারির জন্মনাম ছিল বারবারা অ্যান বারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
১৯৬৪ সালে ‘ওয়ান পটেটো, টু পটেটো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্রেকিং অ্যাওয়ে’ চলচ্চিত্রে এভলিন স্টোলার চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।
ব্রডওয়েতেও সফল ছিলেন বারবারা। স্টিফেন সন্ডহেইমের সংগীতনাট্য ‘কোম্পানি’তে সারাহ চরিত্রে অভিনয় করে টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান। টেলিভিশনে ‘বার্নি মিলার’ ধারাবাহিকে এলিজাবেথ মিলার চরিত্রেও দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন। এ ছাড়া ‘রিয়েল ম্যান’ ও ‘চাইল্ড অব গ্লাস’-এর মতো কাজেও অভিনয় করেছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের অসুস্থতা ও চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়েও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছেন বারবারা। ১৯৯৪ সালে তার কোলোরেক্টাল ক্যানসার শনাক্ত হয়। এ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দুটি বই লেখেন বারবারা। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘সেকেন্ড অ্যাক্ট’ এবং ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘ডোন্ট ডাই অব এমবারাসমেন্ট: লাইফ আফটার কলোস্টমি অ্যান্ড আদার অ্যাডভেঞ্চারস’।
১৯৯৭ সালে সাউথ ফ্লোরিডা সান-সেন্টিনেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যদি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো যায়, সেটিই হবে তার জীবনের অন্যতম অর্জন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবন, পুরস্কার ও মনোনয়ন অর্জনের পাশাপাশি ক্যানসার সচেতনতায় অবদানের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বারবারা ব্যারি।


