...|...|...

সারাদেশ

১০ বছর পর ঘরের বাইরে ঝমেলা বেগম, পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:১৬
Shares
১০ বছর পর ঘরের বাইরে ঝমেলা বেগম, পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন

ছবি: টাইমস টুডে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ঝমেলা বেগমের (৭০) জীবনের শেষ অধ্যায় কেটেছে চার দেয়ালের মধ্যে। কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় এক দশক ধরে তিনি ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি।

দীর্ঘ ১০ বছর পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হুইলচেয়ারে বসে আবারও মুক্ত বাতাসে বাইরে আসেন তিনি।

এদিন দুপুরে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ঝমেলা বেগমের বাড়িতে গিয়ে একটি হুইলচেয়ার, ১০ হাজার টাকা এবং খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। পরে তাকে বিছানা থেকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঘরের বাইরে আনা হয়। এ সময় তার জন্য নিরাপদ আবাসন, বসতভিটা উঁচুকরণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামীকে হারান ঝমেলা বেগম। একমাত্র ছেলে থাকলেও নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন তার মেয়েও। ফলে জীবনের শেষ বয়সে প্রায় একাই দিন কাটছে তার।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একসময় নিজের বসতভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছিল। কিন্তু তাতেও সুস্থতা ফেরেনি। বর্তমানে অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎবিহীন একটি জরাজীর্ণ ঘরে বিছানায় শুয়েই তার দিন-রাত কাটছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাবাসীর সহায়তায় কোনোমতে খাবারের ব্যবস্থা হলেও চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ঝমেলা। তাদের দাবি, তিনি এখনও কোনো সরকারি ভাতার আওতায় আসেননি।

একসময় জোসনা নামে এক শিশুকে নিজের নাতনির মতো লালন-পালন করেছিলেন ঝমেলা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জোসনার বিয়ে হলেও অভাবের কারণে তার পরিবারও অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত ঝমেলার দেখাশোনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ঝমেলা বেগমের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছি। হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায়ও তাকে আনার ব্যবস্থা করা হবে।’

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক মো. জাহিদুল হক মনির, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংবাদিক মুজাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ১০ বছর পর ঘরের বাইরে এসে কিছুক্ষণ নীরবে চারপাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ঝমেলা বেগম। দীর্ঘদিনের বন্দিজীবনের পর খোলা আকাশের নিচে সেই মুহূর্তটি ছিল তার জীবনের এক বিরল অভিজ্ঞতা। প্রশাসনের এই উদ্যোগ তার কাছে শুধু একটি হুইলচেয়ার বা আর্থিক সহায়তা নয়, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার এক টুকরো আশার আলো।