রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে ‘ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি’।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. এস এম তপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি জানায়, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও সংঘবদ্ধ হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, এরইমধ্যে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি রোগীর স্বজনদের হুমকির মুখে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ পোশাকে ওয়ার্ড ত্যাগ করতে হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষিতে তারা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবি হলো,
১. হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২. কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. একজন রোগীর সাথে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনের হাসপাতালে প্রবেশের নিয়ম কার্যকর করা।
৪. রোগী ভর্তির দিন ও পরবর্তী দিন সংশ্লিষ্ট সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৫. অনতিবিলম্বে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
এ বিষয়ে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বুধবার (২১ অক্টোবর) আমরা হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করব। নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া আমাদের অন্য দাবিগুলোও যৌক্তিক। আমাদের দাবি মানলেই আমরা ডিউটিতে ফিরে যাব।
এসব বিষয়ে জানতে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মো. শামীমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।


