বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আবারও ওপরের দিকে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ১২৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা। এই মাত্রার বায়ুমান সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১৯১ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং। ১৬৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা।
একই সময়ে ১২১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। আর ১১৭ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।
আইকিউএয়ার নিয়মিত বিভিন্ন শহরের তাৎক্ষণিক বায়ুমানের তথ্য প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআইয়ের মাধ্যমে কোনো এলাকার বাতাস কতটা দূষিত এবং এর ফলে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ভালো হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে সহনীয় বা মাঝারি মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর স্কোর ৩০১ ছাড়িয়ে গেলে বায়ুমান দুর্যোগপূর্ণ বলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে বায়ুর মান নির্ধারণে প্রধানত পাঁচ ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা বা পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব উৎসের কথা উল্লেখ করা হয়।
বায়ুদূষণের প্রভাব শুধু পরিবেশের ওপর সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা দূষিত বাতাসে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।


