...|...|...

জাতীয়

বঙ্গোপসাগরে ‘শক্তিশালী’ ঘূর্ণিঝড়ের আভাস, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৫
Shares
বঙ্গোপসাগরে ‘শক্তিশালী’ ঘূর্ণিঝড়ের আভাস, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়

বঙ্গোপসাগরে ‘শক্তিশালী’ ঘূর্ণিঝড়ের আভাস। ছবি: সংগৃহীত

মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপের ধাপ পেরিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে ভারতের পূর্ব উপকূলে। তবে বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা আপাতত কম বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিন ধাপে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ কিংবা গভীর নিম্নচাপের রূপ নিতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে এখনো পূর্বাভাসটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ, শক্তি ও আঘাতের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করছে বিডব্লিউওটি।

এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কৃষকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিজমিতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান ইতিমধ্যে পেকে গেছে, সেসব জমির ধান আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শীতকালীন সবজি চাষ ও বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, এমন কৃষকদের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব কার্যক্রম স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সমুদ্রগামী নৌযান ও কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।