ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান সরদারের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং জানাজার ইমামতি ঘিরে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত-সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বিল গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মনিরুজ্জামান সরদার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি উপজেলার বিল গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মনিরুজ্জামান সরদার তিনবার নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দুইবার ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিল গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজায় নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার আগে পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন মরহুমের ভাই আব্দুল কাদের সরদার ও বুলবুল সরদার। এ সময় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম জাহাঙ্গীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহিনুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের আমির সোহরাব হোসেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম এবং সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
বক্তারা বলেন, মনিরুজ্জামান সরদার ছিলেন একজন গ্রহণযোগ্য ও জনমুখী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দলের নেতাদের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এলাকায় ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন।
পরে জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় অভিভাবক মণ্ডলীর সদস্য ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।


