সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রিধারীরা। এমনকি এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আইপিইএমআইএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার এমন চিত্র উঠে এসেছে।
আইপিইএমআইএসের ২৮ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারীরা। এ ধরনের শিক্ষক আছেন ৯৯ হাজার ৯৭৭ জন। এইচএসসি পাস শিক্ষক ৪২ হাজার ২৪২ জন এবং স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী শিক্ষক ২০ হাজার ৯৬৯ জন।
এ ছাড়া বিএসএস ডিগ্রিধারী ১৩ হাজার ১৪৯ জন, এসএসসি পাস ৮ হাজার ৫৬৩ জন এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী ৭ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।
ধর্মীয় শিক্ষায় ডিগ্রিধারীদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকতায়। এ পেশায় কামিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৫ হাজার ৭৪১ জন। ফাজিল পাস করেছেন ১ হাজার ৮৯৭ জন, আলিম পাস ১ হাজার ২৩৮ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।
প্রকৌশল ও কৃষিবিষয়ক ডিগ্রিধারীরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৬১৭ জন। বিএসসি ইন অ্যাগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।
আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ব্যক্তিরাও শিক্ষকতা করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাদের মধ্যে এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩৮৬ জন এবং এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৬ জন। এ ছাড়া এমএড ডিগ্রিধারী ৩৬৭ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৭ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ২৫৮ জন।
বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ও কারিগরি ডিগ্রিধারীদেরও দেখা যাচ্ছে এ তালিকায়। ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষক রয়েছেন ৪৩৮ জন। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক আছেন ২৩ জন।
কম্পিউটারবিজ্ঞানেও উচ্চশিক্ষা নেওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ২১ জন এবং এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন। এ ছাড়া বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী চারজন শিক্ষক রয়েছেন।
উচ্চতর গবেষণার ডিগ্রিধারীদের পাশাপাশি দন্তচিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রিধারীরাও এ পেশায় যুক্ত আছেন। আইপিইএমআইএসের তথ্য বলছে, এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪২ জন। আর বিডিএস বা ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন চারজন।
প্রাথমিকের শিক্ষকদের বড় অংশ মধ্যবয়সী
বয়সের হিসাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের বয়স ৩৬ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। এই বয়সসীমায় শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন। ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জন। ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬০ জন। আর ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক ২৪ হাজার ৫৮৭ জন।
আইপিইএমআইএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। তাদের মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা পুরুষ শিক্ষকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক রয়েছেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন। বিপরীতে পুরুষ শিক্ষকের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ১৩৪ জন। শতকরা হিসাবে নারী শিক্ষক ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং পুরুষ শিক্ষক ৩৩ দশমিক শূন্য ৯৮ শতাংশ।


