...|...|...

সোশ্যাল মিডিয়া

প্রসববেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যেতে বলা সেই চিকিৎসকের দুঃখপ্রকাশ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:১২
Shares
প্রসববেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যেতে বলা সেই চিকিৎসকের দুঃখপ্রকাশ

চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া। ছবি: সংগৃহীত

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর সাংবাদিকদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া।

বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আগের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে ডা. কেয়া লিখেছিলেন, ‘এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন।’ তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।

পরদিন নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে দেওয়া পোস্টে চিকিৎসক কেয়া বলেন, আগের মন্তব্যটি সব সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি। শব্দচয়নে ভুলের কারণেই এমন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি লেখেন, ‘সকল সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আমার পূর্বের পোস্টে ভুলবশত সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যে লেখাটা লিখেছি, সেটার জন্য দুঃখিত। শব্দচয়নে ভুলবশত এমন হয়েছে।’

ডা. কেয়া আরও দাবি করেন, তার আগের পোস্টটি কেবল কয়েকজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তার বিষয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এ কারণে সব সাংবাদিককে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাননি বলেও উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি চৌদ্দগ্রামের খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের সন্তান প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন প্রসূতির স্বজনরা। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে নবজাতকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলেও দাবি করেন তারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রসূতি নাজমাকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে স্বজনদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. কেয়া। তার ভাষ্য, তিনি স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিলেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লা শহরে পাঠিয়ে দেন। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।